প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শাহবাগের ফুটপাতে দিন কাটানো গোলাপি বেগমের জীবনে এসেছে নতুন আশ্রয়র আলো। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপহার দেওয়া বাড়িতে উঠেছেন তিনি। গত শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে বাড়ির চাবি তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর একজন অসহায় মানুষের স্থায়ী ঠিকানা পাওয়ার এ ঘটনা আমাদের সমাজে মানবিক দায়িত্ববোধের গুরুত্ব নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়। ২০২৫ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক সমাবেশের সময় গোলাপি বেগমের অসহায় জীবনযাপনের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে। তার নির্দেশনায় গোলাপি বেগমের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় এক বছর তার চিকিৎসার পাশাপাশি ঢাকায় বাসস্থানের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে স্থায়ী পুনর্বাসনের লক্ষ্যে নির্মিত হয় নতুন বাড়ি। বাড়ি হস্তান্তরের দিন তাকে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়।
এ উদ্যোগের ইতিবাচক দিক হলো, সহায়তাকে কেবল সাময়িক দানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অসহায় মানুষের জন্য মাথা গোঁজার নিরাপদ ঠাঁই শুধু একটি ঘর নয়; এটি ব্যক্তিগত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও নতুন করে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ। চিকিৎসা, বাসস্থান ও আর্থিক সহায়তার সমন্বিত উদ্যোগ তাই বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তবে এ মানবিক উদ্যোগের তাৎপর্য আরও বাড়বে যদি গোলাপি বেগমের পরবর্তী জীবনও নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ হয়। নতুন বাড়িতে তার নিয়মিত চিকিৎসা, জীবিকা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। পুনর্বাসন মানে শুধু একটি বাড়ি হস্তান্তর নয়, বরং একজন মানুষকে আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া। এ ঘটনা আমাদের সামনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে— দেশের ফুটপাত, রেলস্টেশন কিংবা অন্যত্র যারা অসহায় অবস্থায় দিন কাটান, তাদের পুনর্বাসনে কীভাবে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া যায়? ব্যক্তি বা সংগঠনের মানবিক সহায়তার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। দরকার অসহায় মানুষের প্রকৃত চাহিদা চিহ্নিত করা এবং তাদের জন্য বাসস্থান, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। গোলাপি বেগমের নতুন ঠিকানা তাই একটি পরিবারের আনন্দের খবরের চেয়েও বেশি কিছু। এটি মানবিক সহমর্মিতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। এমন উদ্যোগ ধারাবাহিকতা পেলে আরও অনেক মানুষের জীবনে ফিরতে পারে স্বস্তি ও আশার আলো।
মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ মানবিক চর্চা ছড়িয়ে পড়ুক সমাজের সর্বত্র।