ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

স্মার্টফোনের পর্দায় বন্দি শৈশব

তারেক হাসান
স্মার্টফোনের পর্দায় বন্দি শৈশব

একটি ছোট্ট শিশু কান্না করছে। তাকে শান্ত করতে মা কিংবা বাবা হাতে তুলে দিলেন একটি স্মার্টফোন। পর্দায় কার্টুন ভেসে উঠতেই কান্না থেমে গেল। শিশুটি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল, আর অভিভাবক ফিরে গেলেন নিজের কাজে। দৃশ্যটি আমাদের কাছে এতটাই পরিচিত যে, এর মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রশ্নগুলো নিয়ে আমরা খুব একটা ভাবি না। কিন্তু এ সাময়িক স্বস্তিই যদি প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলে শিশুর শৈশবের কতটা জায়গা দখল করে নিচ্ছে একটি ছোট্ট পর্দা? আজকের পৃথিবীতে স্মার্টফোন ছাড়া জীবন কল্পনা করা কঠিন। যোগাযোগ, শিক্ষা, বিনোদন, চিকিৎসা কিংবা কর্মক্ষেত্র— প্রায় সর্বত্র প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। শিশুরাও এ পরিবর্তনের বাইরে নয়। অনলাইনে শেখা, নতুন কিছু জানা, সৃজনশীল কাজ করা এবং পৃথিবীর নানা বিষয়ে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে ডিজিটাল প্রযুক্তি। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন প্রযুক্তি শেখার মাধ্যম না থেকে শিশুর একমাত্র বিনোদন, একাকিত্বের সঙ্গী কিংবা আবেগ নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায় হয়ে ওঠে। আমাদের ভাবতে হবে, শিশুর হাতে স্মার্টফোন থাকা নিজে কোন অপরাধ নয়; বরং তার ব্যবহার কীভাবে, কতক্ষণ এবং কোন উদ্দেশ্যে হচ্ছে, সেটিই মূল বিবেচ্য। কারণ প্রযুক্তিকে বাদ দিয়ে ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব নয়, কিন্তু প্রযুক্তির দাসত্ব শিখিয়ে একটি সুস্থ ভবিষ্যৎও গড়ে তোলা সম্ভব নয়। শিশুদের মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস সাধারণত এক দিনে তৈরি হয় না। অনেক সময় এর শুরু হয় অভিভাবকের প্রয়োজন থেকে। মা রান্না করছেন, বাবা অফিসের কাজে ব্যস্ত, পরিবারের অন্য সদস্যদেরও নানা দায়িত্ব রয়েছে। শিশুকে ব্যস্ত রাখার সহজ উপায় হিসেবে হাতে তুলে দেওয়া হয় ফোন। কখনও খাবার খাওয়াতে, কখনও কান্না থামাতে, আবার কখনও নিজের কাজ নির্বিঘ্নে শেষ করতে। প্রথম দিকে এতে সুবিধা হয়। শিশু চুপচাপ থাকে, বড়রাও কিছুটা সময় পান। কিন্তু প্রতিবার বিরক্তি, কান্না কিংবা একঘেয়েমির সমাধান যদি ফোনের মাধ্যমে করা হয়, তাহলে শিশু ধীরে ধীরে শিখতে পারে— মন খারাপ হলে ফোন, বিরক্ত লাগলে ফোন, অপেক্ষা করতে হলে ফোন। এখানেই তৈরি হয় একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। শিশুরা জীবনের প্রথম দিকে নিজের আবেগ সামলানো, ধৈর্য ধরা, অপেক্ষা করা এবং হতাশা মোকাবিলা করার দক্ষতা অর্জন করে। প্রতিটি অস্বস্তির মুহূর্তে হাতে ফোন তুলে দিলে এসব দক্ষতা চর্চার সুযোগ কমে যেতে পারে।

অবশ্য সব অভিভাবক একই পরিস্থিতিতে নেই। কর্মজীবী মা-বাবা, একক অভিভাবক কিংবা সীমিত সহায়তা নিয়ে সন্তান লালন-পালন করা পরিবারের জন্য শিশুকে সারাক্ষণ ব্যস্ত রাখা সহজ নয়। তাই সমস্যাটিকে শুধু অভিভাবকের অবহেলা বলে বিচার করলে বাস্তবতাকে অস্বীকার করা হবে। প্রয়োজন এমন একটি পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ, যেখানে শিশুর সুস্থ বিকাশের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

শৈশব মানুষের জীবনের এমন একটি সময়, যখন মস্তিষ্ক দ্রুত বিকশিত হয়। ভাষা শেখা, চিন্তা করা, মনোযোগ ধরে রাখা, সামাজিক আচরণ বোঝা এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের মতো দক্ষতা তখন গড়ে ওঠে। এ বিকাশের জন্য শিশুর শুধু তথ্য জানাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন বাস্তব অভিজ্ঞতা, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিজের হাতে কিছু করার সুযোগ।

শিশু যখন একটি বল ছুড়ে দেয়, অন্য শিশুর সঙ্গে খেলনা ভাগ করে নেয়, গল্প শুনে প্রশ্ন করে কিংবা মাটিতে বসে ছবি আঁকে, তখন সে বিভিন্নভাবে শেখে। কোনো কাজ সফল না হলে আবার চেষ্টা করা, অন্যের অনুভূতি বোঝা, ভুল স্বীকার করা এবং সমস্যা সমাধান করার মতো দক্ষতা বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই বিকশিত হয়। স্মার্টফোনে শিক্ষামূলক ভিডিও দেখে শিশু নতুন তথ্য জানতে পারে। কিন্তু পর্দায় গাছের ছবি দেখা আর একটি গাছের পাতা হাতে নিয়ে তার গঠন বোঝা এক অভিজ্ঞতা নয়। ভিডিওতে বন্ধুত্বের গল্প দেখা আর বাস্তবে বন্ধুর সঙ্গে মনোমালিন্য মিটিয়ে নেওয়াও এক বিষয় নয়।

শিশুদের ভাষা বিকাশ নিয়ে প্রকাশিত গবেষণার একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বেশি সময় পর্দায় কাটানোর সঙ্গে ভাষাগত দক্ষতার কিছু নেতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া যায়। অন্যদিকে মানসম্মত শিক্ষামূলক কনটেন্ট এবং অভিভাবকের একসঙ্গে দেখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক সম্পর্কও পাওয়া গেছে। অর্থাৎ শুধু স্ক্রিনের উপস্থিতি নয়, ব্যবহারের ধরন, কনটেন্টের মান এবং শিশুর সঙ্গে বড়দের যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। বেশি মোবাইল ব্যবহার করলেই প্রতিটি শিশুর বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে, এমন সিদ্ধান্ত বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। শিশুর বয়স, পারিবারিক পরিবেশ, ঘুম, খেলাধুলা এবং ব্যবহারের উদ্দেশ্যসহ অনেক বিষয় এর সঙ্গে জড়িত। তবে মোবাইলের কারণে শিশুর স্বাভাবিক শেখা, কথা বলা, চলাফেরা কিংবা মানুষের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ কমে গেলে সেটি অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ অনেক শিশু রাতের খাবারের পরও মোবাইল নিয়ে বসে থাকে। একটি ভিডিও শেষ হলে আরেকটি শুরু হয়, গেমের একটি ধাপ শেষ হলে সামনে আসে নতুন চ্যালেঞ্জ। দেখতে দেখতে ঘুমানোর সময় পেরিয়ে যায়। ঘুমের আগে দীর্ঘ সময় পর্দা ব্যবহার শিশুর ঘুমের রুটিনে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ঘুম কম হলে পরদিন ক্লান্তি, বিরক্তি, মনোযোগের সমস্যা এবং পড়াশোনায় অনীহা দেখা দিতে পারে। ছোটদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা বিশেষভাবে জরুরি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য শারীরিক কার্যক্রম, বসে থাকা এবং ঘুমের বিষয়ে বয়সভিত্তিক নির্দেশনা দিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, সুস্থ বিকাশের জন্য ছোট শিশুদের দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয়ভাবে পর্দা দেখার পরিবর্তে সক্রিয় খেলাধুলা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পরিচর্যাকারীর সঙ্গে গল্প, পড়া ও মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ প্রয়োজন। এ কারণে ঘুমের অন্তত এক ঘণ্টা আগে বিনোদনের জন্য মোবাইল বন্ধ রাখা, শোবার ঘরকে ফোনমুক্ত রাখা এবং প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। এই নিয়ম শুধু শিশুর জন্য নয়, পরিবারের বড়দের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

একটি পরিবারের সবাই একই ঘরে বসে আছেন। বাবা ফোনে সংবাদ পড়ছেন, মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত, আর শিশু দেখছে ভিডিও। বাইরে থেকে মনে হতে পারে, সবাই একসঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। বাস্তবে হয়তো কেউ কারও সঙ্গে কথা বলছেন না। শিশুর মানসিক বিকাশে পরিবারের সঙ্গে অর্থপূর্ণ যোগাযোগের গুরুত্ব অপরিসীম। সে যখন দিনের ঘটনা বলতে চায়, প্রশ্ন করে কিংবা নিজের ভয় ও আনন্দ ভাগ করে নিতে চায়, তখন তার প্রয়োজন এমন একজন মানুষ, যিনি মন দিয়ে শুনবেন। শিশুদের সঙ্গে কথা বলা মানে শুধু উপদেশ দেওয়া নয়। তার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, ভুল করলে ধৈর্য ধরা, তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং একসঙ্গে হাসি-আনন্দ ভাগ করে নেওয়াও এর অংশ। এসব অভিজ্ঞতা শিশুর মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করে।

শিশু যদি বারবার দেখে যে তার কথা শোনার চেয়ে ফোনের পর্দা বড়দের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তাহলে সে ধীরে ধীরে নিজের অনুভূতি প্রকাশে অনাগ্রহী হয়ে উঠতে পারে। তবে এমন ফল সব শিশুর ক্ষেত্রে ঘটবে, তা বলা যায় না। মূল কথা হলো, প্রযুক্তির ব্যবহার যেন পরিবারের আন্তরিক যোগাযোগকে সরিয়ে না দেয়।

শিশু মোবাইল পছন্দ করে বলেই তাকে আসক্ত বলা যাবে না। বরং দেখতে হবে, এ অভ্যাস তার দৈনন্দিন জীবনকে কীভাবে প্রভাবিত করছে। মোবাইল বন্ধ করতে বললেই যদি নিয়মিত তীব্র অস্থিরতা দেখা দেয়, শিশু যদি খেলাধুলা, পড়াশোনা, ঘুম কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর আগ্রহ হারায়, অথবা ব্যবহারের সময় কমানোর চেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। আরও একটি লক্ষণ হলো, শিশুর দৈনন্দিন আনন্দের প্রায় সবকিছুই যদি মোবাইলকেন্দ্রিক হয়ে যায়। আগে যে শিশু ছবি আঁকতে, গল্প শুনতে কিংবা মাঠে খেলতে ভালোবাসত, সে যদি এসব কাজ ছেড়ে দিয়ে অধিকাংশ সময় ফোনে কাটাতে চায়, তাহলে অভিভাবকের উচিত তার পরিবর্তনের কারণ বোঝার চেষ্টা করা।

এ ধরনের সমস্যাকে শিশুর জেদ বা খারাপ আচরণ বলে উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। আবার সামান্য বিরক্তিকেও রোগ হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। সমস্যাটি দীর্ঘস্থায়ী হলে, পারিবারিক প্রচেষ্টায় উন্নতি না হলে কিংবা শিশুর পড়াশোনা, ঘুম ও সামাজিক জীবনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়লে শিশু বিশেষজ্ঞ বা শিশু-মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

শিশুকে মোবাইল থেকে দূরে রাখার জন্য প্রথমেই কঠোর শাসন কিংবা আকস্মিক নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন এমন একটি নিয়ম, যা শিশু বুঝতে পারে এবং পরিবার নিয়মিত মেনে চলতে পারে। প্রথম কাজ হলো বয়স অনুযায়ী স্ক্রিন ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসারে, এক বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য স্ক্রিন টাইম সুপারিশ করা হয় না। এক বছর বয়সেও বসে স্ক্রিন দেখার পরামর্শ নেই। দুই বছর বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে দিনে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা এবং তিন থেকে চার বছর বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে দিনে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা বিনোদনমূলক স্ক্রিন টাইমের সীমা দেওয়া হয়েছে; কম হলে ভালো। এসব নির্দেশনা পাঁচ বছরের কম বয়সীদের জন্য, তাই বড় শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স, প্রয়োজন এবং দৈনন্দিন রুটিন অনুযায়ী আলাদা পরিকল্পনা করা দরকার।

দ্বিতীয় কাজ হলো পরিবারের ফোন ব্যবহারের নিয়ম তৈরি করা। খাবার টেবিলে ফোন নয়, পড়ার সময় বিনোদনমূলক ভিডিও নয়, ঘুমের আগে ফোন নয়— এমন কয়েকটি সহজ নিয়ম দিয়ে শুরু করা যায়। তবে নিয়মটি যেন শুধু শিশুর জন্য না হয়। বড়রাও খাবার খাওয়ার সময় ফোন সরিয়ে রাখলে শিশুর কাছে নিয়মটি বেশি গ্রহণযোগ্য হবে।

তৃতীয় কাজ হলো বিকল্প আনন্দের ব্যবস্থা করা। ফোন বন্ধ করে শিশুকে একা বসিয়ে রাখলে সে আবার ফোন চাইবে, এটাই স্বাভাবিক। তার পরিবর্তে গল্পের বই, আঁকার খাতা, পাজল, বোর্ড গেম, বাগান করা, রান্নার ছোট কাজে অংশ নেওয়া কিংবা পরিবারের সঙ্গে হাঁটার মতো কার্যক্রম তৈরি করতে হবে। চতুর্থত, প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়ার বদলে সেটিকে শেখার উপযোগী করতে হবে। শিশুর বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত কনটেন্ট বেছে নেওয়া, সম্ভব হলে তার সঙ্গে বসে দেখা এবং ভিডিও থেকে কী শিখল তা নিয়ে কথা বলা ভালো। অটোপ্লে বন্ধ রাখা, অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করা এবং অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করাও সহায়ক হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধারাবাহিকতা। আজ মোবাইল বন্ধ, কাল কান্না থামাতে আবার হাতে ফোন— এভাবে চললে শিশু নিয়ম বুঝতে পারে না। তাই অভিভাবকদের ধৈর্য ধরে একই নিয়ম বজায় রাখতে হবে।

শিশুর ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে ওঠে শুধু বাড়িতে নয়; স্কুল, বন্ধু বান্ধব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং চারপাশের পরিবেশও এতে ভূমিকা রাখে। তাই দায়িত্ব কেবল মা-বাবার নয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের বয়স অনুযায়ী ডিজিটাল নিরাপত্তা, তথ্য যাচাই, অনলাইন আচরণ এবং প্রযুক্তির ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহার শেখানো প্রয়োজন। অনলাইন পড়াশোনার জন্য ডিভাইস ব্যবহারের প্রয়োজন থাকলেও অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে তার পার্থক্য বোঝাতে হবে।

শিশুদের জন্য খেলার মাঠ, পাঠাগার, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি। শহরের অনেক এলাকায় খোলা জায়গা কমে গেছে, মাঠে খেলাধুলার সুযোগ সীমিত, আবার অভিভাবকেরাও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়ে শুধু শিশুদের মাঠে খেলতে বললে সমস্যার সমাধান হবে না।

গণমাধ্যমেরও দায়িত্ব রয়েছে। শিশুদের লক্ষ্য করে তৈরি কনটেন্টে বয়সোপযোগিতা, নিরাপত্তা এবং সুস্থ বিনোদনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়া উচিত। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোরও এমন নকশা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন, যা অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা রক্ষা করে এবং অনবরত পর্দায় আটকে থাকার প্রবণতা কমাতে সহায়তা করে।

লেখক : কবি

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত