
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় ও স্বতন্ত্র বহুপ্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন নির্বাচন কমিশনে (ইসি)। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের গ্যাঁড়াকলে অনেকের প্রার্থী চূড়ান্ত হলেও ত্রুটি-অনিয়মের কারণে বেশকিছু হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ, ঢাকা-১৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ, ঢাকা-১১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)র মনোনীত ১২ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পাশাপাশি বেশকিছু হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছেন- চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ঋণখেলাপি হওয়ায় ঢাকা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত আব্দুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন অনিয়ম ও ত্রুটির কারণে বহুপ্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ : ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে এই ঘোষণা দেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, ঢাকা-১৭ আসনে জমা পড়া ১৭টি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিধি মোতাবেক বৈধ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী তারেক রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এসএম খালিদুজ্জামানসহ ১০ জনের মনোনয়নপত্র গৃহীত হয়েছে।
তাছাড়া বিভিন্ন কারণে সাতজনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণাকালে তারেক রহমানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এর আগে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান। জামায়াত আমিরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের দাখিল করা মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে এটি বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী। এ জামায়াতের আমিরের পক্ষে তার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মিরপুরের একাংশ ও কাফরুল থানা এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৫ আসনে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শফিকুর রহমান। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হয়েছিলেন। সেবার তিনি ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিয়েছিলেন। এবার দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা নিয়ে ভোট করবেন শফিকুর রহমান।
ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলামের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা : ঢাকা-১১ আসনে ১২ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এনসিপি’র যুগ্ম সদস্য সচিব তামিম আহমেদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার যাচাই-বাছাই শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। ঠাকুরগাঁও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ইরশাত ফারজানা এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। জেলা প্রশাসক ইরশাত ফারজানা জানান, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ছাত্রশিবির ঢাকা দক্ষিণের সাবেক সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সহ-সভাপতি খাদেমুল ইসলাম মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বিএনপি মহাসচিবসহ ৩টি মনোনয়নই বৈধ ঘোষণা করেন।
তথ্য সংশোধন করে প্রার্থিতায় টিকে গেলেন মামুনুল হক-ববি হাজ্জাজ : হলফনামায় পেশাগত তথ্য ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত ত্রুটি সংশোধন করে ঢাকা-১৩ আসনের নির্বাচনি লড়াইয়ে টিকে গেছেন খেলাফত মজলিসের নেতা মামুনুল হক ও বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। প্রাথমিকভাবে তাদের মনোনয়নে কিছু কারিগরি ও তথ্যের অসংগতি ধরা পড়লেও শুনানির সময় প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন করায় তাদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। এর ফলে এই আসনে ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে শেষ পর্যন্ত ৬ জন বৈধ হিসেবে লড়াইয়ে থাকলেন এবং বাদ পড়লেন ৫ জন।
শনিবার রাজধানীর নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, ঢাকা-১৩ আসনে মোট ১১টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে ৬টি বৈধ ও ৫টি বাতিল করা হয়েছে। বৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন- মামুনুল হক (খেলাফত মজলিস), ববি হাজ্জাজ (বিএনপি), সোহেল রানা (স্বতন্ত্র), মুরাদ হোসেন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মো. শাহাবুদ্দিন (বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি) এবং ফাতেমা আক্তার মুনিয়া (ইনসানিয়াত বিপ্লব)।
পঞ্চগড়ে সারজিসের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা : ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সারজিস আলমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো. সায়েমুজ্জামান। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সারজিস আলমের হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ৩ লাখ ১১ হাজার ১২৮ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ১ লাখ টাকা। তার নামে দানকৃত কৃষিজমির পরিমাণ ১৬ দশমিক ৫০ শতক। অর্জনকালে ওই জমির আর্থিক মূল্য ছিল ৭ হাজার ৫০০ টাকা, যা বর্তমানে আনুমানিক ৫ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যবসা থেকে বছরে তার আয় ৯ লাখ টাকা। সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তিনি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) উল্লেখ করেছেন। হলফনামার তথ্যে দেখা যায়, সারজিস আলমের নামে একটি মামলা রয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন। তার নামে কোনো বন্ড, ঋণপত্র বা স্টক এক্সচেঞ্জভুক্ত শেয়ার নেই। আসবাবপত্রের মূল্য দেখানো হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য ৭৫ হাজার টাকা। তার কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই। এছাড়া তার নামে কোনো বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা ভবনও নেই। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে সারজিস আলম তার মোট আয় দেখিয়েছেন ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার মোট সম্পদের মূল্য ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬২৮ টাকা। এ খাতে তিনি ৫২ হাজার ৫০০ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল : জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন এ সিদ্ধান্ত জানান। হলফনামার সঙ্গে জমা দেওয়া দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরের মিল না থাকায় আনিসুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের নির্বাহী হাকিম হেদায়েত উল্যাহ জানান, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ তার মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দলীয় যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, সেখানকার স্বাক্ষরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পাঠানো দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরে গরমিল রয়েছে। এ কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-৫ আসন থেকে ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল : ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার মনোনয়ন যাচাই-বাচাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা জারার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন। ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আজমল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন আজমল হোসেন বলেন, মোট ভোটারের মধ্যে ৪ হাজার ৩০০ জনের স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল। সেটা ঠিকই ছিল। বরং কিছু বেশি ভোটারের স্বাক্ষর ছিল। তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, প্রস্তাবক ও সমর্থক হিসেবে নাম দেওয়া ১০ জনের মধ্যে ৮ জন ঢাকা-৯ আসনের ভোটার। বাকি ২ জন ওই আসনের ভোটার না হওয়ায় নির্বাচনবিধি অনুযায়ী তার মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে তার (তাসনিম জারা) আপিলের সুযোগ আছে। তাসনিম জারা এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ছিলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনি জোট গঠন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে দলটি ছাড়েন তিনি। এরপর ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দেন। পেশা হিসেবে চিকিৎসকের পাশাপাশি শিক্ষকতা ও উদ্যোক্তার কথা উল্লেখ করেছেন তাসনিম জারা। ৩১ বছর বয়সী তাসনিম জারা আয়ের মূল উৎস হিসেবে চাকরির কথা উল্লেখ করেছেন।
হলফনামায় তিনি বলেছেন, দেশের ভেতরে চাকরি করে বছরে ৭ লাখ ১৩ হাজার টাকা আয় করেন। দেশের বাইরে থেকে তার আয় হয় ৩ হাজার ২০০ ব্রিটিশ পাউন্ড। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রার্থীদের হলফনামা অনুযায়ী, তাসনিম জারার অস্থাবর সম্পদের মূল্য ২২ লাখ ৩০ হাজার ১৯০ টাকা। তাঁর কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ ১৬ লাখ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ২ হাজার ২৭০ পাউন্ড, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১০ হাজার ১৯০ টাকা এবং আড়াই লাখ টাকা মূল্যের সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু রয়েছে।
সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর রিটার্ন জমার বিবরণীতে তাসনিম জারা বছরে ৭ লাখ ১৩ হাজার ৫৯৭ টাকা আয় দেখিয়েছেন। আয়কর রিটার্নে সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৫০৯ টাকা। আর আয়কর দিয়েছেন ৩৪ হাজার ৫৭ টাকা। হলফনামায় তাসনিম জারা নির্ভরশীল হিসেবে স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহর নাম উল্লেখ করেছেন। খালেদ সাইফুল্লাহ পেশায় একজন উদ্যোক্তা। তার দেশের ভেতরে কোনো আয় নেই। তবে দেশের বাইরে বছরে ৩৫ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড আয় করেন। আর শেয়ার, বন্ড বা সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে আয় করেন ৪ হাজার ৮০০ ব্রিটিশ পাউন্ড।
ঢাকা-২ আসনে জামায়াতের আব্দুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল : ঋণখেলাপি হওয়ায় ঢাকা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত আব্দুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঢাকা জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম এ ঘোষণা দেন।
মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম সভায় আব্দুল হকের উদ্দেশে রেজাউল বলেন, ‘ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) রিপোর্ট অনুযায়ী, ঋণখেলাপি করেছেন আপনি। আপনার এই ইস্যুগুলো থাকলে সিআইবি থেকে আপডেট করা উচিত ছিল। আপনি অফিসিয়ালি ঋণখেলাপি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত ঋণখেলাপি। আপনার মনোনয়নপত্র এই মুহূর্তে গ্রহণ করার সুযোগ আমাদের নেই। তবে আপনার আপিল করার সুযোগ আছে।’
রিটার্নিং কর্মকর্তা রেজাউল বলেন, ‘আপনার ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন টেন বি ফর্ম জমা দেওয়া হয়নি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিও দেননি। এছাড়াও আপনি প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীদের তথ্য দেননি।’ ঢাকা-২ আসনে তিনজন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। আব্দুল হক ছাড়া বাকি দুজন হলেন- বিএনপির আমানউল্লাহ আমান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জহিরুল ইসলাম। এ দুজনের মনোনয়নপত্রকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপির আমানের উদ্দেশে রিটার্নিং কর্মকর্তা রেজাউল হক বলেন, ‘শুরুতে আপনার বিরুদ্ধে মামলার তথ্য সম্পর্কিত কাগজপত্রে ঘাটতি ছিল, এখন পুরোটাই আমরা মিলিয়ে নিতে পেরেছি। একটা মামলায় পুলিশের রিপোর্ট ছিল, কিন্তু মামলার আদেশটি বাতিল হয়েছিল কি না, এটা ছিল না। এখন আমাদের হাতে এসেছে।
আপনার মামলা সম্পর্কিত জটিলতা কেটেছে। আপনার মনোনয়ন বৈধ হিসেবে গ্রহণ করা হয়।’ এবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর। পরদিন থেকে বাছাই শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাতিল হলে নিয়ম অনুযায়ী আপিলের সুযোগ পাবেন আগ্রহী প্রার্থীরা। বাছাইয়ে বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল দাখিল করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তির পর কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। ঢাকা-২ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজার ২১৫ জন। ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার প্রতি একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ১০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন।
ময়মনসিংহ-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী লিটনের মনোনয়নপত্র বাতিল : ত্রিশাল উপজেলা নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ-৭ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান লিটনসহ ছয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। শনিবার ময়মনসিংহ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুর রহমান বলেন, মামলার তথ্য গোপন করায় বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্য প্রার্থীরাও তথ্য গোপন করায় তাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। ময়মনসিংহ-৭ আসন থেকে মোট নয়জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তার মধ্যে ছয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হলেন- বিএনপির মো. মাহাবুবুর রহমান লিটন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত, জয়নাল আবেদীন, আবুল মুনসুর, খেলাফত মজলিসের নজরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস।
কুমিল্লায় ১১টি আসনে ৩১ জনের মনোনয়ন বাতিল, বৈধ ৭৬ : জেলার ১১টি সংসদীয় আসনে মোট ১০৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ৩১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং ৭৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন। গতকাল শনিবার (মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিন) কুমিল্লা-৭ থেকে কুমিল্লা-১১ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই করে ১৫ জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। এর আগে শুক্রবার কুমিল্লা-১ থেকে কুমিল্লা-৬ আসনে যাচাই-বাছাই শেষে ১৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তবে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ে আপিল করতে পারবেন প্রার্থীরা। এদিকে সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে। এই আসনে জমা পড়া ১৩টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৮টিই বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান বলেন, ‘কুমিল্লার ১১টি আসনে মোট ৭৬টি মনোনয়নপত্র বৈধ ও ৩১টি মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার দুই দিনে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।’ আসনভিত্তিক মনোনয়নপত্রের মধ্যে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন (বৈধ), বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য খন্দকার মারুফ হোসেন (বৈধ), জামায়াতে ইসলামীর মনিরুজ্জামান বাহলুল (বৈধ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বশির আহমেদ (বৈধ), খেলাফত মজলিসের সৈয়দ আব্দুল কাদের (জামাল) (বৈধ), জাতীয় পার্টির সৈয়দ মো. ইফতেকার আহসান (অবৈধ), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. আবুল কালাম (বৈধ), এবি পার্টির মো. শফিউল বাসার (বৈধ), জাসদের বড়ুয়া মনোজিত ধীমান (অবৈধ), স্বতন্ত্র ওমর ফারুক (অবৈধ), কাজী মো. ওবায়েদ (অবৈধ) ও আবু জায়েদ আল মাহমুদ (অবৈধ)।
কুমিল্লা-২ (হোমনা ও তিতাস) আসনে বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া (বৈধ), জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য নাজিম উদ্দিন মোল্লা (বৈধ), জাতীয় পার্টির মো. আমির হোসেন ভূঁইয়া (বৈধ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আশরাফুল আলম (বৈধ), ইসলামীক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আব্দুস সালাম (অবৈধ), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের আব্দুস সালাম (বৈধ), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মো. শাহাব উদ্দিন (অবৈধ), স্বতন্ত্র আব্দুল মতিন (বৈধ), মো. রমিজ উদ্দিন (অবৈধ) ও মো. মনোয়ার হোসেন (অবৈধ)।
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়িকোবাদ (বৈধ), জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ইউসুফ সোহেল (অবৈধ), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. খোরশেদ আলম (বৈধ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আহমদ আবদুল কাইয়ুম (বৈধ), এনডিএমণ্ডএর রিয়াজ মো. শরীফ (বৈধ), আমজনতার দলের চৌধুরী রকিবুল হক (বৈধ), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. শরীফ উদ্দিন সরকার (বৈধ), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. এমদাদুল হক (বৈধ) ও গণঅধিকার পরিষদের মো. মনিরুজ্জামান (অবৈধ)।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপির মনজুরুল আহসান মুন্সী (বৈধ), এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ) (বৈধ), গণঅধিকার পরিষদের মো. জসিম উদ্দিন (বৈধ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ম. আ. করিম (স্থগিত), আমজনতার দলের মো. মাসুদ রানা (অবৈধ), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের গাজী ইরফানুল হক সরকার (বৈধ), খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ মজিবুর রহমান (বৈধ) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোফাজ্জল হোসেন (অবৈধ)।
কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং- ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে বিএনপির মো. জসিম উদ্দিন (বৈধ), জামায়াতে ইসলামীর মো. মোবারক হোসেন (বৈধ), এবি পার্টির ব্যারিস্টার জোবায়ের আহমেদ (বৈধ), জেএসডির শিরিন আক্তার, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের আবুল কালাম ইদ্রিস (বৈধ), জাতীয় পার্টির এমরানুল হক (বৈধ), ইনসানিয়াত বাংলাদেশের তানজিল আহমেদ (বৈধ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাশেদুল ইসলাম (বৈধ), এনপিপির মো. আবুল বাশার (অবৈধ), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আব্দুল্লাহ আল কাফি (অবৈধ)। কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ও সেনানিবাস) আসনে বিএনপির মনিরুল হক চৌধুরী (বৈধ), জামায়াতে ইসলামীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ (বৈধ), স্বতন্ত্র হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন (বিএনপি) (বৈধ), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. মাসুম বিল্লাহ (বৈধ), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. ইয়াছিন (বৈধ), এবি পার্টির মিয়া মোহাম্মদ তৌফিক (বৈধ), জেএসডির ওবায়দুল কবীর মোহন (বৈধ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. হারুনুর রশিদ (বৈধ), মুক্তি জোটের মো. আমির হোসেন ফরায়েজী (অবৈধ), বাসদের কামরুন নাহার সাথী (অবৈধ) ও গণঅধিকার পরিষদের মোবারক হোসেন (বৈধ)।
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে বিএনপির রেদোয়ান আহমেদ (বৈধ), জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মোশাররফ হোসেন (বৈধ), স্বতন্ত্র আতিকুল আলম শাওন (বৈধ), ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা এতেশামুল হক (বৈধ), মুক্তিজোটের সজল কুমার কর (বাতিল), খেলাফত মজলিসের সোলাইমান খাঁন (বৈধ) ও স্বতন্ত্র মাওলানা সালেহ সিদ্দিকী (বাতিল)। কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে বিএনপির জাকারিয়া তাহের সুমন (বৈধ), জামায়াতে ইসলামীর সফিকুল আলম হেলাল (বৈধ), জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম মিলন (বাতিল), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. মফিজ উদ্দিন (বৈধ), স্বতন্ত্র মো. গোলাম মোর্শেদ (বৈধ), বাসদের মোহাম্মদ আলী আশরাফ (বাতিল), জাতীয় পার্টির এইচ এম এম ইরফান (বৈধ), ইসলামী আন্দোলনের মো. গোলাম সাদেক (বৈধ), খেলাফত মজলিসের মো. জোবায়ের হোসেন (বৈধ) ও ইসলামী ঐক্যজোটের আব্দুল কাদের (বৈধ)।
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে বিএনপির আবুল কালাম (বৈধ), জামায়াতে ইসলামীর ড. সৈয়দ একেএম সরওয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকী (বৈধ), স্বতন্ত্র সামিরা আজিম দোলা (বাতিল), রশিদ আহমেদ হোসাইনী (বাতিল), জাতীয় পার্টির গোলাম মোস্তফা কামাল (বাতিল), ইসলামী আন্দোলনের সেলিম মাহমুদ (বৈধ), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আবু বকর সিদ্দিক (বৈধ), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মিজানুর রহমান চৌধুরী (বৈধ), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. মাহবুবুর রহমান (বৈধ), খেলাফত মজলিসের আব্দুল হক আমিনী (বৈধ), স্বতন্ত্র ইয়াছির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক (বাতিল), মোহাম্মদ মফিজুর রহমান (বাতিল) ও মোহাম্মদ আবুল কালাম (বৈধ)।
বরিশালের ৬টি আসনে ৬ জনের মনোনয়ন বাতিল, ১০ জনের স্থগিত : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিনে বরিশালে ৪ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা। এছাড়া বেশ কিছু অসঙ্গতি থাকায় ৮ প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা। এনিয়ে বরিশালের সংসদীয় ৬টি আসনে ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ও ১০ জনের মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ২ ও ৩ জানুয়ারি বরিশালের সংসদীয় ৬টি আসনের ৪৮টি মনোনয়ন বাছাই করা হয়। শনিবার বাছাইয়ের শেষ দিনে বরিশালের সংসদীয় ১,২,৩ আসনের ২৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাছাই করা হয়। এসময় অঙ্গীকার নামায় দলীয় প্রধানের স্বাক্ষর না থাকা, ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি ও দলীয় মনোনয়ন না থাকায় বরিশাল ৩ বাবুগঞ্জ-মুলাদী আসনে জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেনের ও অপর জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফখরুল আহসানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়াও একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল সত্তার খানের ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি থাকায় মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে বরিশাল-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপু ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের প্রার্থী আজমুল হাসান জিহাদ এর মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। আসটিতে ৯ প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের বাতিল, দুইজনের স্থগিত ও চারজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ আসনটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জয়নুল আবেদীন ও এবি পার্টির মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে রিটার্রিং কর্মকর্তা। এছাড়া বরিশাল-২ উজিরপুর-বানারীপাড়া আসনে রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন না থাকায় জাসদ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনটিতে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত ও ৪ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বরিশাল-১ গৌরনদী-আগৈলঝাড়া আসনটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী কামরুল ইসলাম খান এর মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। আসনটিতে মোট ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন বৈধতা পেয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার বাছাইয়ের প্রথম দিনে ২ জনের মনোনয়ন বাতিল ও ২ জনের মনোনয়ন স্থগিত করে রিটার্নিং কর্মকর্তা। যাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে তারা পুনরায় আপিল করতে পারবে। আর যাদের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে তাদের বিষয়ে যাচাই বাছাই করে রোববার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তা। উল্লেখ্য, বরিশালের ৬টি সংসদীয় আসনে ৬২টি মনোনয়ন সংগ্রহ করা হয়েছিল এর মধ্যে ৪৮টি মনোনয়ন জমা দেন প্রার্থীরা। বাছাই শেষে ৩২টি মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে রিটার্নিং কর্মকর্তা।