
নির্বাচন নিয়ে বহির্বিশ্বের কোনো চাপ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। গতকাল শনিবার মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে তিনি সকালে মুন্সিগঞ্জে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
তৌহিদ হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার নিজেই নির্বাচনের আয়োজন করেছে। সময় সংক্ষিপ্ত, ১২ ফেব্রুয়ারি সরকার নির্বাচন করে নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব দেবে। তাই বহির্বিশ্বের চাপের কোনো বিষয় নেই। অন্যান্য দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে কতটুকু ভালো সম্পর্ক রাখবে, সেটা তাদের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বহির্বিশ্বের সবার ভালো সম্পর্ক। নির্বাচন নিয়ে বহির্বিশ্বের কোনো চাপ নেই। শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দেশে ফেরত আনার বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিচার নিয়ে তাড়াহুড়ো করার সুযোগ নেই। আমরা চেষ্টা করছি হাদি হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে ফিরিয়ে আনতে।
তবে এখনো আমরা শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বলতে পারছি না আসামিরা কোথায় আছেন। আমরা ইনডিগেশনে পেয়েছি তারা সম্ভবত পার হয়ে গেছেন। খুব সুনির্দিষ্ট জায়গা যদি চিহ্নিত করা যেতো তাহলে বলা যেতো ভারতেই আছেন তারা।
উপদেষ্টার আরও বলেন, হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। দ্রুত বিচার কাজ শেষ করতে কাজ অব্যাহত রয়েছে তবে জড়িতরা ভারতে থাকার তথ্য থাকলেও নির্দিষ্ট কোথায় আছে, সে তথ্য নেই। সেটি জানা গেলে ভারত সরকারকে তাদেরকে ধরার বিষয়ে বলা হতো।
মো.তৌহিদ হোসেন বলেন, বিচার সময় বেঁধে হয় না। তারপরও সরকারের সার্বিক চেষ্টা থাকবে আসামিদের যতদ্রুত সম্ভব বিচারের মুখোমুখি করার।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে তিনি মুন্সিগঞ্জ শহরের দক্ষিণ কোটগাঁওয়ে অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে তিনি শহরের উত্তর ইসলামপুর এলাকায় জুলাই আন্দোলনে শহীদ তিনজনের কবর জিয়ারত করেন এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন।
এরপর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় জেলার সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা।