ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

এক আসনের সব প্রিজাইডিং অফিসার অন্য আসনে নিয়োগ নয় : ইসি

* দুইদিনে ইসিতে ১৬৪ আপিল * নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই : ইসি সানাউল্লাহ * অভিযোগ গ্রহণে দায়িত্ব পেলেন ১০ কর্মকর্তা
এক আসনের সব প্রিজাইডিং অফিসার অন্য আসনে নিয়োগ নয় : ইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, কোনো উপজেলায় কর্মকর্তা সংকট থাকলে পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে নিয়োগ দেওয়া যাবে। তবে একটি আসনের সব প্রিজাইডিং অফিসারকে ঢালাওভাবে অন্য আসনে নিয়োগ দেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়।

নির্দেশনায় ইসি জানায়, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় যদি প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা না পাওয়া যায়, তবেই কেবল পার্শ্ববর্তী বা নিকটবর্তী উপজেলা থেকে কর্মকর্তা নিয়োগ করা যাবে। তবে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, কোনো একটি বিশেষ আসনের সব প্রিজাইডিং অফিসারকে অন্য কোনো আসনে একযোগে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।

গত ২৯ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাঠানো একটি পত্রের (স্মারক নম্বর-৬৬) পরিপ্রেক্ষিতে এই স্পষ্টীকরণ দিল ইসি। এছাড়া গত ১৫ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ সংক্রান্ত একটি মূল নির্দেশিকা (স্মারক নম্বর-৩৯৮) জারি করা হয়েছিল। সেই নির্দেশনার আলোকেই বর্তমান সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

ইসি জানিয়েছে, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও অবস্থান বিবেচনা করে প্যানেল তৈরি করতে হবে। জনবল সংকটের যৌক্তিক কারণ থাকলেই কেবল আন্তঃউপজেলা নিয়োগ কার্যকর হবে। তবে প্রিজাইডিং অফিসারদের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখতে এক আসনের কর্মকর্তাদের অন্য আসনে গণহারে বদলি না করার বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে কমিশন। এই অবস্থায়, নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত মোতাবেক দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

দুইদিনে ইসিতে ১৬৪ আপিল : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিল সংক্রান্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ১২২টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। এ নিয়ে দুইদিনে মোট আপিল আবেদন দাঁড়িয়েছে ১৬৪টি। গতকাল মঙ্গলবার ইসির এ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বুথ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। ইসি জানায়, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের দ্বিতীয় দিন ইসিতে মোট ১২২টি আবেদন জমা পড়েছে। দুইদিনের আপিলে মোট ১৬৪ আবেদন পড়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। তাতে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৪২ জন।

ইসির তথ্যানুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার ১০ অঞ্চলে মোট ১২২টি আবেদন পড়েছে। এর মধ্যে রংপুর অঞ্চলে ১০টি, রাজশাহী অঞ্চলে ১৭টি, খুলনা অঞ্চলে ১৬টি, বরিশাল অঞ্চলে ৫টি, ময়মনসিংহ অঞ্চলে ১৬টি, ঢাকা অঞ্চলে ২৩টি, ফরিদপুর অঞ্চলে ৫টি, সিলেট অঞ্চলে ৮টি, কুমিল্লা অঞ্চলে ১৪টি এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৮টি আপিল আবেদন জমা হয়েছে। এর আগের দির গত সোমবার ৪২ আবেদন পরে ইসিতে।

নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই : নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, ১৩ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২০০টি লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে কমিশন। মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আসন্ন নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলার ভিজিল্যান্স ও অভজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় পর্যালোচনা করা হয়েছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় যেসব নিরাপত্তা-সংবেদনশীল বিষয় রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বার্তা একটাই স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা। মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হবে। আচরণবিধি প্রতিপালনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কমিশন কঠোর অবস্থানে থাকবে। প্রাথমিকভাবে আচরণবিধি প্রতিপালনে তাদের মধ্যে সচেতনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্ত:দলীয় সংঘাতের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম, যা একটি ইতিবাচক লক্ষণ। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসুক, কোনো দল যেন সহিংসতায় জড়িয়ে না পড়ে- সেভাবে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজন করাই সবার প্রত্যাশা।

গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, সঠিক তথ্য সঠিক সময়ে তুলে ধরা গণমাধ্যমের বড় দায়িত্ব। অপতথ্য ও গুজব রোধে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। অপতথ্য ছড়ানো যেমন অপরাধ, তেমনি অপতথ্য শেয়ার করাও অপরাধ—এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। নির্বাচন নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কারও যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে নির্বাচনী ইনকোয়ারি কমিটি ও নির্বাচন কমিশনের কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাচনি অভিযোগ গ্রহণ করতে দায়িত্ব পেলেন ১০ কর্মকর্তা : জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচন-সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য প্রদান ও অভিযোগ গ্রহণের জন্য ১০ জন কর্মকর্তাকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছে ইসি। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইসি সূত্র জানায়, দেশের ১০টি অঞ্চলের জন্য পৃথকভাবে এই কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা নিজ নিজ অঞ্চলের নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ করবেন এবং তথ্য সরবরাহ করবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন— খুলনা অঞ্চলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দীন আহমদ; ফরিদপুর অঞ্চলে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল হাসান ভূঞা; ময়মনসিংহ অঞ্চলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার; বরিশাল অঞ্চলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী সচিব মোহাম্মদ আল-মামুন; সিলেট অঞ্চলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক মিসবাহ উদ্দীন আহমেদ; ঢাকা অঞ্চলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক জাকির মাহমুদ; রংপুর অঞ্চলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী সচিব সৈয়দ গোলাম রাশেদ; চট্টগ্রাম অঞ্চলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক মুহা. সরওয়ার হোসেন; রাজশাহী অঞ্চলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী সচিব মো. মমতাজ-আল-শিবলী; কুমিল্লা অঞ্চলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ইকরামুল হাসান। জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, অভিযোগ দাখিলের জন্য নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে এসব কর্মকর্তাদের মোবাইল নম্বর ও ইমেইল সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর প্রতিটি সংসদীয় আসনের জন্য বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি’র কাছেও অভিযোগ দায়ের করা যাবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত