
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ২১টি পদের শীর্ষ তিন পদসহ মোট ১৬টি পদে জয় পেয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির- সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল। প্রথমবার আয়োজিত ভোটেই সাফল্য দেখিয়েছি ছাত্র সংগঠনটি। এর মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আয়োজিত সব বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদের নেতৃত্বে এলো ইসলামী ছাত্রশিবির।
ডাকসু, জাকসু, চাকসু ও রাকসুর জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখল জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠনটি। জকসুতে এক বছরের কমিটিতে ভোট হওয়া ২১ পদের মধ্যে ভিপি, জিএস ও এজিএস এর পাশাপাশি সম্পাদক পদের আটটি এবং পাঁচটি সদস্য পদে জয় পেয়েছে শিবিরের নেতৃত্বাধীন প্যানেল। ছাত্রদল-ছাত্র অধিকার পরিষদের প্যানেল জয় পেয়েছে তিনটি সম্পাদক পদ এবং একটি সদস্য পদে। আরেকটি সদস্য পদে জয়ী হয়েছেন একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
কোন পদে কে জয়ী, কত ভোট পেলেন : ভিপি পদে রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৫৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট। বিজয়ী ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ইসলামী ছাত্রশিবির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সাধারণ সম্পাদক ও অফিস সেক্রেটারির দায়িত্বে ছিলেন। রিয়াজুল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকোত্তরের দ্বিতীয় সেমিস্টারে অধ্যয়নরত।
জিএস পদে ৫ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন আবদুল আলীম আরিফ। এই পদের প্রতিদ্বন্দ্বী খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২ হাজার ২৩ ভোট। বিজয়ী জিএস আবদুল আলীম আরিফ ইসলামী ছাত্রশিবির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকোত্তরের দ্বিতীয় সেমিস্টারে অধ্যয়নরত। এজিএস পদে জয়ী হয়েছেন মাসুদ রানা। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ২০ ভোট। এই পদে আতিকুল ইসলাম তানজীল পেয়েছেন ৪ হাজার ২২ ভোট। বিজয়ী এজিএস মাসুদ রানা ইউনাইটেড পিপলস (আপ) বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে জুলাই আগস্টের আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন। মাসুদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত।
এ ছাড়া ইসলামী ছাত্রশিবির- সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে মো. নুরনবী ৫ হাজার ৪০০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। নুরনবী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত।
শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল ৫ হাজার ৫২৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অফিস সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইব্রাহিম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকে অধ্যয়নরত। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মোছা. সুখীমন খাতুন ৪ হাজার ৪৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকে অধ্যয়নরত।
স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ ৪ হাজার ৪৭০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নুর মোহাম্মদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকে অধ্যয়নরত।
আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক হাবীব মোহাম্মদ ফারুক ৪ হাজার ৬৫৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে স্নাতকে অধ্যয়নরত।
আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নওশীন নাওয়ার ৪ হাজার ৪০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নওশীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত। ক্রীড়া সম্পাদক পদে জর্জিস আনোয়ার নাইম ২ হাজার ৪৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। জর্জিস জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে স্নাতকে অধ্যয়নরত।
সমাজসেবা ও শিক্ষার্থীকল্যাণ সম্পাদক পদে মোস্তাফিজুর রহমান ৩ হাজার ৪৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। মোস্তাফিজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে স্নাতকের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।
ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার ও সাধারণ শিক্ষার্থী সমন্বিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল জয় পেয়েছে তিনটি সম্পাদকীয় পদে। সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে তাকরিম মিয়া ৫ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে স্নাতকে অধ্যয়নরত। পরিবহন সম্পাদক পদে মাহিদ হোসেন ৪ হাজার ২৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে স্নাতকে অধ্যয়নরত। পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে মো. রিয়াসাল রাকিব ৪ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত। কার্যনির্বাহী সদস্যের সাতটি পদের মধ্যে শিবির- সমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ী হয়েছেন পাঁচজন।