ঢাকা সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে শিশু আহত, টেকনাফে উত্তেজনা

ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে শিশু আহত, টেকনাফে উত্তেজনা

রাখাইনে ত্রিমুখী সংঘর্ষে ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে টেকনাফে শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ ঘটনার জেরে সীমান্তজুড়ে দিনভর চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মিয়ানমারের সংঘাতে বাংলাদেশে পালিয়ে এলো রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৫৩ সদস্য। অন্যদিকে গুলিবিদ্ধ শিশুটিকে চমকে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। গতকাল রোববার কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশি এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে এক শিশু নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লেও শেষ খবর মতে শিশুটি মারা যায়নি।

গুলিবিদ্ধ শিশুর নাম আফনান (১২) ওরফে পুতুনি। সে লম্বাবিল এলাকার জসিম উদ্দিনের মেয়ে ও একই এলাকার হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। এ ঘটনার খবরে স্থানীয়রা কক্সবাজার-টেকনাফ প্রধান সড়কের লম্বাবিল এবং টেচ্ছা ব্রিজ এলাকায় অবরোধ করেন। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তিন ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক করে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

অন্যদিকে মিয়ানমারের গোলাগুলির ফলে ভয়ে নিরাপদ স্থানে ছুটছেন সীমান্তের মানুষ। পাশাপাশি মিয়ানমারে থেকে প্রাণে বাঁচতে গুলিবিদ্ধসহ দেশটির ৫৩ জন নাগরিক (রোহিঙ্গা) বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। তাদের আটক করেছে বিজিবি। টেকনাফ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, গুলিবিদ্ধ শিশুটি মারা যায়নি। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

বিজিবি জানায়, রোববার সকালে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশের সময় ৫৩ জন মিয়ানমারের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য ও এক বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়। এদিকে সীমান্তের ওপারে গোলাবর্ষণের শব্দে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় অনেক সীমান্তবাসী ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে রাতভর গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। একপর্যায়ে মিয়ানমার দিক থেকে আসা গুলিতে এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। এছাড়া মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশকালে আটক অর্ধশতাধিক মিয়ানমার নাগরিক পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা তিন দিন ধরে কয়েক দিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ চলছে। সেখানে আরাকান আর্মির সঙ্গে আরসা, আরএসও ও নবী হোসেন এবং মাহাজ গ্রুপের মধ্যে চলমান গোলাগুলির প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তেও। এতে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

হোয়াইক্যং সীমান্তের বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিন বলেন, টানা কয়েকদিন ধরে এই সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি ঘটনা চলছে। গতকাল সন্ধ্যা থেকে শুরু গোলাগুলি রবিবার ভোরে থেমেছে। এতে সীমান্তের মানুষের নির্ঘুমের পাশাপাশি আতঙ্কের মধ্য জীবন পার হচ্ছে। এ ছাড়া আজকে মিয়ানমারে থেকে ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশি এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্য চরম ক্ষোভ দেখা গেছে। হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল বলেন, মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে এক বাংলাদেশি শিশু আহত হয়েছে। এ ছাড়া সীমান্তে কয়েকদিন ধরে গুলিবর্ষণের ঘটনায় পরিস্থিতি থমথমে। সীমান্তের অনেক বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে। আবার অনেকে গুলির ভয়ে পাকা ঘরে আশ্রয় নিচ্ছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত