
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী টেকনাফে রাখাইন রাজ্যের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির গুলিতে আহত শিশু হুজাইফা আফনান লাইফ সাপোর্টে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করার কথা রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন। তিনি জানান, রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় আফনানকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। গুলিটি মস্তিষ্কের ভেতরেই রয়ে গেছে, যা বের করা সম্ভব হয়নি। উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় শিশু আফনানের চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের বৈঠকে তাকে দ্রুত রাজধানীতে স্থানান্তরের সুপারিশ করে। চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির মস্তিষ্কে গুলি অবস্থান করায় মস্তিষ্কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। সেই চাপ কমাতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে খুলির একটি অংশ খুলে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এটি একটি স্বীকৃত মেডিকেল প্রসিডিউর এবং চিকিৎসার অংশ। চমেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, গুলিটি মস্তিষ্কের পেছনের অংশের খুব কাছাকাছি রয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি আছে। এই অবস্থায় অস্ত্রোপচার করলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে শিশুটির জীবনঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আফনানের চাচা শওকত আলী জানান, গুলিটি মুখ দিয়ে ঢুকে সরাসরি মস্তিষ্কে চলে গেছে। দ্রুত তাকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাতে অস্ত্রোপচারের চেষ্টা করা হলেও ঝুঁকি বেশি থাকায় গুলিটি বের করার চেষ্টা করা হয়, তবে সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলটি সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে। গত রোববার সকাল ৯টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় নিজ বাড়িতে থাকার সময় স্কুলছাত্রী হুজাইফা আফনান গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ সময় সে লাইফ সাপোর্টে ছিল।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব, সীমান্তে গুলি নিয়ে উদ্বেগ : মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াউ সোয়ে মোকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব ক?রা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে তলব করে সীমান্তে গুলিবর্ষণ এবং তাতে বাংলাদেশে হতাহতের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকায় সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের দিকে গুলি এসে বাংলাদেশি এক শিশু আহতের ঘটনায় সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, বাংলাদেশের দিকে বিনা উস্কানিতে গুলি চালানো আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং প্রতিবেশীর সঙ্গে এ? ধর?নের ঘটনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য প্রতিবন্ধক।
ভবিষ্যতে এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত গোলাগুলি বন্ধ করতে মিয়ানমারকে সম্পূর্ণ দায়িত্ব ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে বাংলাদেশ। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এবং মিয়ানমারে সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে যাই ঘটুক না কেন, তা যেন বাংলাদেশের জনগণের জীবন ও জীবিকাকে প্রভাবিত না করে তা নিশ্চিত করতে বলেছে ঢাকা। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত আশ্বস্ত করেছেন যে, তার সরকার এ ধরনের ঘটনা বন্ধে ব্যবস্থা নেবে। আহত ও তার পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।