
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশ প্রশাসনের রদবদলের মধ্যে দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিলেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক’ কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। জানতে চাইলে সাজ্জাত আলী জানান, ‘আগামী নভেম্বর পর্যন্ত আমার চুক্তির মেয়াদ আছে। তবে আমি আজ অব্যাহতি চেয়ে চিঠি দিয়েছি।’ পুলিশের মহাপরিদর্শক পদে পরিবর্তন আসার পরদিনই সরে যাওয়ার খবর দিলেন ডিএমপি কমিশনার।
বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা শেখ মো. সাজ্জাত আলী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি থাকা অবস্থায় ২০১৬ সালের নভেম্বরে চাকরিচ্যুত হন।
চব্বিশের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ভূতাপেক্ষভাবে তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করে। পরে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর ডিএমপির ৩৮তম পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পান সাজ্জাত আলী।
ওইদিনই পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন বাহারুল আলম। নির্বাচনের পর দেশের দায়িত্ব নেওয়া বিএনপি সরকার মঙ্গলবার তাকে সরিয়ে এপিবিএন প্রধান আলী হোসেন ফকিরকে আইজিপির দায়িত্ব দেয়।
ডিএমপি কমিশনার পদেও যে পরিবর্তন আসছে, সেই গুঞ্জন কয়েক দিন ধরেই চলছিল। তার মধ্যেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি দিলেন সাজ্জাত আলী।
কাজী এরতেজাসহ চার জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা : দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সম্পাদক কাজী এরতেজা হাসানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এসেছে আদালতের আদেশে। এদিকে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের ঢাকার বিজয় নগর শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক ইসলামুল হক, সাবেক এফভিপি খন্দকার নূরে ইমাম এবং সাবেক ট্রেইনি সহকারী অফিসার জান্নাতুল মাওয়া সুইটিরও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
দুদকের পৃথক দুই আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জানিয়েছেন এরতেজার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন দুদকের উপসহকারি পরিচালক আবু মোহাম্মদ আনোয়ারুল মাসুদ। আবেদনে বলা হয়, কাজী এরতেজা হাসানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশত্যাগ করে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বিদেশে পালিয়ে গেলে অনুসন্ধান কাজ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য তার বিদেশযাত্রা বন্ধ করা প্রয়োজন। অপর তিন জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আব্দুল মালেক।
আবেদনে বলা হয়, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে একে অপরের সহযোগিতায় প্রকৃত ব্যক্তিকে আড়াল করে বেনামে হিসাব পরিচালনায় সহযোগিতা করে ব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে অর্পিত দায়িত্ব পালন না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে।
ব্যাংকের নীতিমালা অনুসরণ না করে অসৎ উদ্দেশ্যে ১৪ জন ব্যক্তির নামে ২৩৪টি এফডিআর হিসাব খোলে এবং তা পরবর্তীতে বন্ধ করে মোট ১৬৫ কোটি ৪৫ হাজার টাকা অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে।