
ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে ইঞ্জিনের ওভারহিট (অতিরিক্ত গরম) থেকে লেগেছে বলে ধারণা করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। আগুনে ট্রেনটির পাওয়ার কার ও একটি এসি বগি পুড়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট স্টেশনের কাছে ট্রেনটিতে আগুন লাগে। ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার পর কোনও এক পর্যায়ে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দুটি বগিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
কুমিরা ফায়ার স্টেশনের সহকারী কর্মকর্তা এহসান আলী বলেন, ‘আগুন লাগার খবর পেয়ে সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সকাল ৮টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে ট্রেনের পাওয়ার কার (বিদ্যুৎ সরবরাহ করা বগি) ও একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগি পুড়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ইঞ্জিনের ওভারহিট থেকে এ ট্রেনে আগুন লেগে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ক্ষতির বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।’
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সূত্র জানিয়েছে, চট্টলা এক্সপ্রেসে পাওয়ার কারসহ ১৮টি বগি ছিল। পেছন দিক থেকে ছয় নম্বরে থাকা পাওয়ার কার এবং একটি এসি বগি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম স্টেশন ছাড়ার কথা থাকলেও আজ ২০ মিনিট বিলম্বে ৬টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়ে গেছে। ৬টা ৪৩ মিনিটে আগুন লাগার বিষয়টি জানতে পেরে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।’
চলন্ত ট্রেনে আগুন, যা দেখা গেল সিসিটিভি ফুটেজে: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ডের শিকার চট্টলা এক্সপ্রেস চার ঘণ্টা পর ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে উপজেলার কুমিরা রেলস্টেশন থেকে ট্রেনটি ছেড়ে যায়। এর আগে চলন্ত অবস্থায় সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ভাটিয়ারি ইউনিয়নের বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) গেট এলাকায় এতে আগুন লাগে।
আগুনে পুড়ে যাওয়া পাওয়ার কার (বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী বগি) ও ক্ষতিগ্রস্ত একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগি রেখেই ট্রেননি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বগি দুটিকে চট্টগ্রামের রেলওয়ে মেরামত কারখানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এটি নগরের ফৌজদারহাট রেলস্টেশন থেকে ধারণ করা। এতে দেখা যায়, সকাল ছয়টা ৪০ মিনিটে ট্রেনটি ফৌজদারহাট স্টেশন পার হচ্ছে। তখনই এতে আগুন দেখা গেছে। প্ল্যাটফর্মে থাকা চার ব্যক্তির মধ্যে দুজন আগুন দেখে চিৎকার করেন। তাঁরা ট্রেনের বগিতে থাকা যাত্রীদের সতর্ক করেন। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী মো. আশিকুর রহমান বলেন, আগুন লাগা ট্রেনটির অক্ষত বগিগুলোকে প্রথমে সীতাকুণ্ডের কুমিরা স্টেশনে নেওয়া হয়। পরে দুটি বগি চট্টগ্রাম থেকে কুমিরা স্টেশনে এনে সংযুক্ত করা হয়। এরপর সেটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত বগি দুটি চট্টগ্রামের মেরামত কারখানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আগুন লাগার এ ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। এতে রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) আনিসুর রহমানকে প্রধান করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে ফৌজদারহাট স্টেশনে ৩৫ মিনিট ও ভাটিয়ারি স্টেশনে ৮ মিনিট আটকে রাখা হয়। পাশাপাশি ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনকেও অন্তত ১০ মিনিট আটকে রাখা হয়। ফৌজদারহাট স্টেশনে কথা হয় সিলেটগামী পাহাড়িকা ট্রেনের যাত্রী জমির উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার আইয়ুব বিবি সিটি করপোরেশন কলেজের প্রভাষক। তিনি বলেন, তিনি এক স্বজন নিয়ে সিলেট যাচ্ছিলেন। সকাল ১০টার দিকে তাঁদের ট্রেনটিকে ফৌজদারহাট স্টেশনে আটকে রাখা হয়। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি ছেড়ে না যাওয়ায় এমনটি করা হয়েছে।
ফৌজদারহাট স্টেশনের স্টেশন মাস্টার নিতীশ চাকমা বলেন, ‘সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে চট্টলা এক্সপ্রেস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। এরপর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ও বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন দুটিও তাঁরা ছেড়েছেন।’
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা মুঠোফোনে বলেন, ট্রেনটিতে আগুন লাগার কারণে কোনো যাত্রী কিংবা তাঁদের মালামালের ক্ষতি হয়নি। তবে ট্রেনে কেন আগুন লেগেছে সেটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেসে ভয়াবহ আগুন- রক্ষা পেয়েছেন ৯০০ যাত্রী : আগুন লাগা ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে আনুমানিক ৯০০ জন যাত্রী ছিলেন। তারা সবাই নিরাপদে আছেন, কেউ আহত বা নিহত হননি বলে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কর্মকর্তারা। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্র জানিয়েছে, চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে ৮২৮টি আসন থাকলেও দাঁড়ানোসহ মোট ৯০০ জন যাত্রী ছিলেন।
বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম স্টেশন ছাড়ার কথা থাকলেও আজ ২০ মিনিট বিলম্বে ৬টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়ে গেছে। ৬টা ৪৩ মিনিটে আগুন লাগার বিষয়টি জানতে পেরে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগুনে ট্রেনটির পাওয়ার কার (বিদ্যুৎ সরবরাহ করা বগি) ও একটি এসি বগি পুড়ে গেছে। কোনও যাত্রী হতাহত হননি। ট্রেনটির পাওয়ার কার ও একটি এসি বগি পুড়ে গেছে। পরে একটি নতুন পাওয়ার কার ও একটি এসি বগি সংযোজন করে ১০টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে।’
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের নিরাপত্তা বাহিনীর ইন্সপেক্টর আমান উল্লাহ বলেন, ‘চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। সব যাত্রী নিরাপদে নেমে যেতে সক্ষম হয়েছে।’
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট স্টেশনের কাছে ট্রেনটিতে আগুন লাগে। ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার পর কোনও এক পর্যায়ে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দুটি বগিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
কুমিরা ফায়ার স্টেশনের সহকারী কর্মকর্তা এহসান আলী বলেন, ‘আগুন লাগার খবর পেয়ে সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সকাল ৮টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে ট্রেনের পাওয়ার কার ও একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগি পুড়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ইঞ্জিনের ওভারহিট থেকে এ ট্রেনে আগুন লেগে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ক্ষতির বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।’
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সূত্র জানিয়েছে, চট্টলা এক্সপ্রেসে পাওয়ার কারসহ ১৮টি বগি ছিল। পেছন দিক থেকে ছয় নম্বরে থাকা পাওয়ার কার এবং একটি এসি বগি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।