
জোরপূর্বক শ্রম কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর— ইউএসটিআর বলেছে, কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান এবং যুক্তরাজ্য থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। বাকি ৪৫টি দেশের পণ্যের ওপর সাড়ে ১২ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে, যা মার্কিন বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। রয়টার্স লিখেছে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন পাল্টা শুল্কব্যবস্থায় ফিরে যেতে চাইছে। যদিও এ ধরনের প্রচেষ্টা গেল ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ের ফলে বাতিল হয়ে যায়। এক বিবৃতিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, ‘জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়।’ ‘এর ফলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে মার্কিন শ্রমিকদের বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।’ তদন্তের বরাতে ইউএসটিআর বলেছে, কিছু পণ্যকে এই নতুন শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হবে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ), কিছু ধাতু, গরুর মাংস, কফি, নির্দিষ্ট ফল ও সবজি, ওষুধ, জৈব রাসায়নিক পদার্থ এবং উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ।
ইউএসটিআর আরও জানিয়েছে, প্রস্তাবিত শুল্ক ও অন্যান্য পদক্ষেপের বিষয়ে ৬ জুলাই পর্যন্ত জনমত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে উন্মুক্ত শুনানি হবে ৭ জুলাই।
ইউএসটিআর বলেছে, তারা একটি বিশেষ বস্ত্র ব্যবস্থা চালুরও প্রস্তাব করেছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক ও বস্ত্রপণ্য কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবে। তবে কত শুল্ক প্রযোজ্য হবে এবং কত পরিমাণ পণ্য এ সুবিধা পাবে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।