ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

হরমুজ প্রণালি ঘিরে ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

হরমুজ প্রণালি ঘিরে ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

ইরানে হরমুজ প্রণালি ঘিরে ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত সপ্তম দিনে গড়িয়েছে। গত শুক্রবার রাত থেকে গতকাল শনিবার ভোর পর্যন্ত উভয় পক্ষই নতুন করে হামলা চালিয়েছে। একইসঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে এএফপি ও রয়টার্স। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, টানা সপ্তম রাতের অভিযানে তারা ইরানের নজরদারি স্থাপনা, সামরিক রসদ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভান্ডার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, এ অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, যুদ্ধজাহাজসহ বিভিন্ন সামরিক সম্পদ ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। অন্যদিকে ইরান গত শনিবার নতুন করে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। দেশটির সেনাবাহিনীর ভাষ্য, কুয়েতের আল-আদিরি শিবির ও আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি, জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটির জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহৃত একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু’ প্রতিহত করায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। জর্ডান জানিয়েছে, তারা ১০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে, তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

বাহরাইনেও বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়। এর আগে বাহরাইন ও কাতার উভয় দেশই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি করেছিল। ইরানের একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে কাতার, কুয়েত ও ওমানে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে আইআরজিসির ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহের পথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেও পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নিয়েছে দুই পক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর করছে। এসময় চারটি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন, একটি জাহাজ অচল এবং আরেকটিতে ওঠার কথা জানিয়েছে মার্কিন বাহিনী। অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের নৌ চলাচলের নিয়ম লঙ্ঘন করায় চারটি জাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযানের মাধ্যমে থামানো হয়েছে।

এ ছাড়া আইআরজিসি দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইন পেতে রাখা পথে চলাচল করার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকার বিস্ফোরণে পুড়ে যায়। তবে সেন্টকম এ দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরজিসির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসন’ অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চল থেকে রাসায়নিক সার তো দূরের কথা, ‘এক ফোঁটা তেল বা গ্যাসও’ রপ্তানি হবে না।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানিয়েছে, হরমুজগান প্রদেশে মার্কিন হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। দুটি সেতু ও একটি সড়ক সুড়ঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় জাস্ক শহরে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনায় হামলার পর আশপাশের কয়েকটি গ্রামের পানীয়জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম।

এ ছাড়া ইয়াজদ, আহভাজ, সিরিক, খোররমাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

শুক্রবার ইরানি গণমাধ্যম জানায়, দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন হামলায় অন্তত পাঁচটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্দর খামির এলাকায় সেতুতে হামলায় সাতজন নিহত হন। সেখানে একটি রেলস্টেশনেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তান সীমান্তবর্তী ইরানশাহর শহরের একটি বিমানবন্দরেও হামলা হয়েছে বলে জানানো হয়।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখলে তেহরান আবারও ‘পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান’ শুরু করবে।

তার ভাষ্য, ইরান আর ‘যেমন কর্ম তেমন প্রতিক্রিয়া’-তে সীমাবদ্ধ থাকবে না এবং কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই নিরাপদ থাকবে না। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইরান ও অঞ্চলজুড়ে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মুখপাত্রের ভাষ্য, এ ধরনের হামলা ‘গ্রহণযোগ্য নয়’।

হরমুজ প্রণালিতে কার্যত চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বেড়েছে।

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বাজার বন্ধ হওয়ার সময় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৮ ডলারের বেশি ছিল, যা এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ ও লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আর্থিক বাজারে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।

হরমুজ প্রণালীতে মাইন বিস্ফোরণে ২টি তেল ট্যাংকার বিস্ফোরিত : ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড শনিবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকার মাইন বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এই দাবি অস্বীকার করেছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রেভল্যুশনারি গার্ড বলেছে, ‘এক ঘণ্টা আগে দুটি তেলবাহী জাহাজ বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। সেগুলো হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণে মাইন পাতা এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, এসব জাহাজকে বিভ্রান্তিকর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পরিচালনা করছিল।’ তবে বিবৃতিতে জাহাজ দুটির নাম উল্লেখ করা হয়নি।

রেভল্যুশনারি গার্ড আরও বলেছে, ‘নিজেদের সম্পদ এবং তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ নিজেদের জীবন রক্ষার স্বার্থে নাবিকদের বিভ্রান্ত হয়ে মাইন পাতা এলাকায় প্রবেশ করা উচিত নয়।’ যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই দাবি অস্বীকার করেছে। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তারা বলেছে, ‘আইআরজিসির অধিকাংশ দাবির মতো এটিও মিথ্যা।’ রেভল্যুশনারি গার্ড গত শনিবার আলাদা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা চারটি জাহাজকে তারা ‘থামিয়ে দিয়েছে’।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘গত কয়েক ঘণ্টায় সন্ত্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনীর সহায়তায় চারটি লঙ্ঘনকারী জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে চারটি জাহাজকেই থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ ইরান গত এক সপ্তাহ ধরে কার্যত আবারও হরমুজ প্রণালীর চলাচল সীমিত করে রেখেছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে তেহরান। তারা তেলবাহী জাহাজ ও পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, প্রণালীর উত্তর দিকে ইরানের উপকূলসংলগ্ন পথ ব্যবহার করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র যে দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌপথ রক্ষার চেষ্টা করছে, তা এড়িয়ে চলতে হবে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরানের হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করেছে। একই সঙ্গে প্রণালীর ওপর নজরদারি ও হুমকি মোকাবিলায় ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্য নিয়ে দেশটিতে রাতভর বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

কুয়েতের তেল শোধনাগারে ইরানের ভয়াবহ হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি : মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থাপনায় একের পর এক আঘাত হানছে ইরান। এবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার। হামলায় স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

গতকাল শনিবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে, দেশটির তেল খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনায় একাধিক দফায় হামলা চালিয়েছে ইরানের বাহিনী। হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কুনার বরাতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পরপরই স্থাপনাটি খালি করে দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কুয়েত দমকল বাহিনী জানিয়েছে, সকালে হামলার পর দুটি জায়গায় আগুন ধরে যায়। আগুন নেভাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন। প্রথম ঘটনাস্থলে আগুন নেভানোর সময় আহতদের দ্রুত সরিয়ে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এগুলো মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাজের সময় শোনা যাচ্ছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানে টানা সাত রাত ধরে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইরান অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে বিমান হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, মার্কিন বাহিনী যদি হামলা চালিয়ে যায় তাহলে ইরান পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধে নামতে বাধ্য হবে।

গত শুক্রবার রাতের হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এভাবে হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ইরান শুধু পাল্টা আঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমরা পূর্ণ যুদ্ধে নামব। সেক্ষেত্রে উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই নিরাপদ থাকবে না।

মার্কিন হামলায় ইরানের জাস্ক কাউন্টির ১০ হাজার মানুষ পানিহীন : মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। টানা সপ্তম রাতের মতো উভয় পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইরান কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলার দাবি করেছে।

এদিকে, ইরানের জাস্ক কাউন্টির উপকূলীয় বুঞ্জি গ্রামে পানি শোধন (লবণাক্ততা দূরীকরণ) পাম্পে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এ ঘটনায় ওই এলাকার ২০টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের সুপেয় পানির সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে।

হরমোজগান পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হামজেহ পুরের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে দেশটির বার্তা সংস্থা তাসনিম।

হামজেহ পুর মার্কিন এই হামলাকে ‘একগুচ্ছ অপরাধ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, বুঞ্জি পানি শোধন প্ল্যান্টের সমুদ্র থেকে পানি তোলার একটি পাম্পিং স্টেশন এবং একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার এই হামলায় ‘সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস’ হয়ে গেছে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই গ্রামগুলো এখন তীব্র পানি সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।’

মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণে নাগরিকদের নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করল যুক্তরাষ্ট্র : মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক উত্তেজনা আবারও শুরু হওয়ায় কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের প্রতি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। তারা মধ্যপ্রাচ্যে বা এর মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করতে নাগরিকদের বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে।

আল কাবাস সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দূতাবাস তার কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্স চ্যানেলের মাধ্যমে জারি করা এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় বলেছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়েছে এবং কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই তা পরিবর্তিত হতে পারে।

এতে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা আমেরিকানদেরকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দূতাবাস আরও অনুরোধ করেছে, এই অঞ্চলের মধ্যে ভ্রমণকারী বা এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে ট্রানজিটকারী যাত্রীরা যেন যাত্রা শুরুর আগে তাদের এয়ারলাইন্সের সাথে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হন যে, ফ্লাইটগুলো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলছে এবং নিরাপত্তাজনিত কোনো পরিস্থিতির কারণে তাতে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। এছাড়া দূতাবাস জানিয়েছে, মার্কিন নাগরিকদের জন্য সীমিত জরুরি কনস্যুলার সহায়তা অব্যাহত রয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে থাকা ব্যক্তিরা যেন নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানার মাধ্যমে এর কনস্যুলার বিভাগে যোগাযোগ করেন।

হরমুজের বিকল্প চালু করছে ইরাক, ডজনের বেশি চুক্তি স্বাক্ষর : ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে বৈশ্বিক তেল রপ্তানি হুমকির মুখে পড়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানির জন্য পাইপলাইন চালু করছে ইরাক। এ লক্ষ্যে দেশটি বেশ কয়েকটি চুক্তি করেছে। গত শুক্রবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাক সরকার পশ্চিমা তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে একটি হলো একটি জ্বালানি সরবরাহপথ পুনরুদ্ধার করা। এ চুক্তির মাধ্যমে বাগদাদ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার না করেই তেল রপ্তানি করতে পারবে।

শুক্রবার ওয়াশিংটনে ইউএস চেম্বার অব কমার্সে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক ব্যবসায়িক শীর্ষ সম্মেলনে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এটি এমন এক সময়ে স্বাক্ষরিত হয়েছে, যখন বাগদাদ হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে। এ প্রণালিতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে নৌযান চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা ইরাক-সিরিয়া অপরিশোধিত তেল পাইপলাইনটি পুনর্নির্মাণের জন্য ইরাক ও সিরিয়া একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। পাইপলাইনটি উত্তর ইরাকের তেলসমৃদ্ধ কিরকুক অঞ্চল থেকে সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর বানিয়াস পর্যন্ত বিস্তৃত।

ইরাকের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, প্রধান মার্কিন জ্বালানি কোম্পানি শেভরন এ চুক্তির আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা পাইপলাইনটি পুনর্বাসনের জন্য ইরাক ও সিরিয়ার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম প্রকল্পটির প্রযুক্তিগত ও আর্থিক দিক বাস্তবায়ন করবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ‘পুনর্বাসনের পর এই পাইপলাইন দিয়ে প্রাথমিকভাবে দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা সম্ভব হবে।’ তারা এই পাইপলাইনটিকে ‘ইরাকের তেল উৎপাদনকে ভূমধ্যসাগরীয় রপ্তানি বাজার এবং এর বাইরের অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক বলেন, ইরাকের সর্বশেষ তেল পাইপলাইন-সংক্রান্ত চুক্তিগুলো নতুন যোগাযোগব্যবস্থা উন্মোচন করবে। এর ফলে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অনেকটাই কমে যাবে।

কোম্পানিটির কর্পোরেট ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের প্রেসিডেন্ট জেক স্পিয়ারিং বলেন, সিরিয়া পাইপলাইন প্রকল্প ছাড়াও শেভরন তেল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইরাকের সঙ্গে আরও দুটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

ইরাকের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের মালিকানাধীন স্টারলিংকের সঙ্গে ইরাক সরকারও একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তি খাতে মার্কিন সংস্থাগুলোর সঙ্গে ইরাকি কর্মকর্তাদের প্রাথমিক চুক্তিগুলোর মোট মূল্য ৬০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

ওয়াশিংটন সম্মেলনে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেন, ‘আমরা উন্মুক্ত নীতি অনুসরণ করছি। যাদের প্রকল্প আছে, তারা আমাদের কাছে এসে কথা বলতে পারেন। আমরা কারও জন্য কোনো অসুবিধা সৃষ্টি করব না।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত