
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের উদ্যোগে গঠিত 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি'তে বাংলাদেশ যোগ দেবে কি না, সে বিষয়ে সরকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, চুক্তিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। শামা ওবায়েদ বলেন, মক্কা চুক্তিতে অংশগ্রহণের বিষয়ে আমরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছি। এতে যোগদানের আগে বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত এই জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থই প্রধান বিবেচ্য হবে। তবে এখনও চুক্তিতে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পায়নি।
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে নিয়ে গঠিত এই জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে এমন অবস্থানের কথা জানানো হলো। এর আগে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখার কথা জানিয়েছিলেন। রোববার সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ চুক্তিতে যোগদানে কোনো ঝুঁকি দেখছে না এবং এতে অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান সম্পৃক্ততা সীমিত হবে না।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহর সঙ্গে বৈঠকের পর হুমায়ুন কবির বলেছিলেন, এটি একটি অনন্য চুক্তি, যা নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে। উদ্যোগটির প্রতি বাংলাদেশের ইতিবাচক মনোভাব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, 'মক্কা বাংলাদেশের হৃদয়ে।'
গত ৭ আগস্ট 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়। এ পর্যন্ত সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক চুক্তিটির অংশীদার হয়েছে। চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
এদিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শামা ওবায়েদ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিষয়েও কথা বলেন। এছাড়া ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের বিষয়ও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করা এবং নতুন ও তরুণ আইনপ্রণেতাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আইপিইউ সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। সফররত আইপিইউ মহাসচিব বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলেও জানান তিনি। তবে এ দিনের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়টি। সরকার চুক্তিটির সম্ভাব্য সুযোগ ও প্রভাব পর্যালোচনা করে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।