
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ডেঙ্গুতে সাতজন এবং হামের উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ডেঙ্গুতে আরও ২ হাজার ২৪৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল রোববার নিয়মিত বুলেটিনে এসব তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বুলেটিন অনুযায়ী, চলতি অক্টোবর মাসে এ নিয়ে দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৪৪ হাজার ৩২৮ জন; যা চলতি বছরের মাসের হিসেবে সর্বোচ্চ। এর আগের মাস সেপ্টেম্বরে ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিল।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর এ নিয়ে ডেঙ্গুতে মোট ৩৮৪ জনের প্রাণ গেল। এর মধ্যে অক্টোবর মাসেই প্রাণ গেছে ১৩৯ জনের। বুলেটিনে বলা হয়, গত শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার হাসপাতালগুলোতে ২২৭ জন ডেঙ্গু ভর্তি হন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার হাসপাতালে ভর্তি হন ২০১ জন। দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬০৫ জন।
অন্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ২১১ জন, চট্টগ্রামে ২১৭ জন, খুলনায় ২৯৭ জন, ময়মনসিংহে ১৫৫, রাজশাহী ১৭৪, রংপুরে ৮২ এবং সিলেটে ৩০ জন ভর্তি হয়েছেন। বুলেটিন অনুসারে, চলতি বছর এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। যার মধ্যে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ জন রোগী হাসপাতাল ছেড়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল ছেড়েছেন ২ হাজার ২৬৮ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। গত বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় ৪ শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের বেশি।
হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ জনের মৃত্যু : দেশে গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১ হাজার ১২৩ জন। এছাড়া নিশ্চিতভাবে হাম নিয়ে মারা গেছে ১০৪ জন। অর্থাৎ হাম ও রোগটির উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২২৭ জনের মৃত্যু হল। গতকাল রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগে দুজন, ময়মনসিংহ, সিলেট এবং ঢাকা বিভাগে একজন করে মারা গেছে।
এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৫০২ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর সিলেট বিভাগে ২০০ জন, চট্টগ্রামে ১০৭, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮৮, বরিশালে ৬৫, খুলনায় ৫১ ও রংপুর বিভাগে ১৭ জন মারা গেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ১ হাজার ২৮০ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ সময়ে ৭৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৮৯ জন। যার মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪৬৭ জন, চট্টগ্রামে ২১৯, সিলেটে ১২২, বরিশালে ১৩৫, খুলনায় ৭৫, ময়মনসিংহে ১০৫, রংপুরে ৩৬ ও রাজশাহীতে ৩০ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৭০৩ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭৪ জন। বুলেটিন অনুসারে চলতি বছর হাম উপসর্গে রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ২১ হাজার ১৬৪ জন। যার মধ্যে ২৩ হাজার ৪০০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হিসাব রাখে। যদিও হাসপাতালে আসা সব রোগী কিংবা হাসপাতালের বাইরে থাকা সব রোগীর হাম পরীক্ষা হয় না। ফলে হাম শনাক্ত হওয়া রোগীর প্রকৃত সংখ্যা জানা কঠিন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে শুধু হাসপাতালে আসা ও ভর্তি হওয়া রোগীদের তথ্যই নথিভুক্ত করা হয়।