
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনীতির সুযোগ এখনও দেখছে ইরান। তবে ওয়াশিংটন ফের সামরিক হামলা চালালে কঠোর প্রতিরোধের প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
যুদ্ধ যদি শেষ পর্যন্ত মহাপ্রলয়ের মতো ভয়াবহ রূপও নেয়, ইরান তখনও প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, ইরানের প্রতিনিধিদল 'শান্তির জন্য' নিউইয়র্কে এসেছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো পক্ষ নতুন করে হামলা চালালে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।
এসময় পরিস্থিতি এমন পর্যায়েও পৌঁছাতে পারে, যা মহাপ্রলয়ের মতো ভয়াবহ যুদ্ধের রূপ নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন আরাগচি। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন আরাঘচি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানি প্রতিনিধিদলকে ভিসা দিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে প্রতিনিধিদলের চলাফেরায় বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কোনো বৈঠক এখনও নির্ধারিত হয়নি। এর আগে ইরান প্রস্তাব দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ কমাতে কিছু পদক্ষেপ নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।
তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের এ প্রস্তাব নাকচ করেছেন। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে ফের হামলা চালানোর হুমকিও দিয়েছেন তিনি। ফলে, দুই দেশই প্রকাশ্যে কূটনীতির কথা বললেও তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন এখনও কাটেনি। কয়েক মাসের সামরিক সংঘাত ও নিষেধাজ্ঞার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। একই সঙ্গে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের একই জায়গায় আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে, এখন পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে কোনো অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি। বরং আলোচনায় ফিরতে হলে আগে অন্য পক্ষকেই পদক্ষেপ নিতে হবে বলে উভয় পক্ষই দাবি করে আসছে।