ঢাকা শনিবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

জাতীয় পার্টির প্রার্থীর সঙ্গে বিবাদে জড়ালেন আখতার

জাতীয় পার্টির প্রার্থীর সঙ্গে বিবাদে জড়ালেন আখতার

রংপুর-৪ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলাকালে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্য সচিব ও দলের প্রার্থী আকতার হোসেন প্রকাশ্যে বিবাদে জড়িয়ে পড়লেন জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে। এ নিয়ে তুমুল হট্টগোল ও চিৎকার-চেঁচামেচির ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় এনসিপি প্রার্থী আকতার হোসেন ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবার রহমানের সমর্থকদের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার বিকাল ৪টায় রংপুরের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক এনামুল আহসানসহ নির্বাচন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে রিটার্নিং অফিসার রংপুর-৪ আসনের দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় নির্ধারণ করেন। নির্ধারিত সময় পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-৪ আসনের ১০ জন প্রার্থী এবং তাদের প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বিকাল ৪টার দিকে রংপুর-৪ আসনের এনসিপির প্রার্থী দলের সদস্য সচিব আকতার হোসেনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করার পর রিটার্নিং অফিসার তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। এরপর জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবার রহমানের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং অফিসার বৈধ ঘোষণা করেন। এ সময় জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও তার সমর্থকরা ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলেন। তখন এনসিপি প্রার্থী আকতার হোসেন চেয়ার থেকে উঠে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ বলে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। এ সময় তার সমর্থকরাও চিৎকার করতে থাকেন। ওই সময় জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবার রহমানের সমর্থকরা আলহামদুলিল্লাহ উচ্চস্বরে বলতে থাকেন। একপর্যায়ে আকতার চেয়ার থেকে উঠে সেখান থেকে বাইরে বেরিয়ে যেতে থাকেন। তখন সেখানে উপস্থিত অন্যদের অনুরোধে আবারও তিনি চেয়ারে বসেন।

এ সময় আকতার হোসেন মাইক নিয়ে বলতে শুরু করেন। ‘জাতীয় পার্টি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর, তাকে কীভাবে নির্বাচন করতে দেওয়া হচ্ছে’ বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ সময় এনসিপির দুই নেতা কথা বলতে শুরু করলে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার এনামুল আহসান বলতে থাকেন, ‘এখানে কেউ চিৎকার করবেন না; সবাই শান্ত হয়ে বসুন। নির্বাচনি আচরণবিধি কেউ ভঙ্গ করবেন না।’

একপর্যায়ে পরিস্থিতি শান্ত হলে আকতার হোসেন জাতীয় পার্টিকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর বলে আখ্যায়িত করেন।

এর আগে, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলাকালে আকতার হোসেন মাইক নিয়ে বলেন, ‘জাতীয় পাটির প্রার্থী ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের দোসর। আমার আপত্তি আমি জানিয়ে রাখলাম।’ সে সময় এনসিপির নেতা আলমগীর নয়ন কিছু বলতে শুরু করলে রিটার্নিং অফিসার বলেন, ‘দয়া করে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করতে দিন।’

এদিকে, রংপুর-৪ আসনের ১০টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৩টি বাতিল ও ৭টি বৈধ ঘোষণ করার পর এনসিপি প্রার্থী আকতার হোসেন জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষের বাইরে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বলেন, ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে রক্ত দিয়েছি আমরা। আমরা অনেক আগে থেকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসর জাতীয় পার্টির রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি করে আসছি। আবারও জাতীয় পার্টির রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।’

জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবার রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানে রংপুরে জাতীয় পার্টির ভূমিকা, আন্দোলনে সরাসরি অংশ নেওয়ার ভিডিওসহ সব প্রমাণ সাংবাদিকদের কাছে আছে। আপনারা দেখেছেন আপনারাই সাক্ষী।’

তিনি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

এর আগে সকালে রংপুর-৩ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে ৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত