ঢাকা শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

হেঁটে দলীয় কার্যালয়ে গেলেন তারেক রহমান

হেঁটে দলীয় কার্যালয়ে গেলেন তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ বছর পর দেশে ফেরার পর অনেকটা নিরাপত্তা কড়াকড়ির মধ্যেই চলছেন। দলীয় কর্মসূচি কিংবা অন্য আয়োজনে যাওয়ার সময় তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা জোরদার করে থাকেন তারেক রহমানের ‘প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা’ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন সিএসএফ সদস্যরা। কখনো কখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সক্রিয় থাকেন তার নিরাপত্তা নিশ্চিতে। তবে গতকাল শুক্রবার বিকেলে ভিন্নরকম দৃশ্যের অবতারণা ঘটেছে গুলশানে। নিজের বাসা থেকে পায়ে হেঁটে গুলশানে দলের কার্যালয়ে যান তারেক রহমান। এদিন বিকেল ৪টায় তারেক রহমানকে গুলশান কার্যালয়ে হেঁটে হেঁটে আসতে দেখে রীতিমতো অবাক হয়ে যান উপস্থিত সবাই।

বিএনপির গুলশান কার্যালয় সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শী বিষয়টি জানিয়েছেন। কার্যালয়ে ঢোকার সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সালাম বিনিময় করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তারেক রহমান কার্যালয়ে প্রবেশের একটু আগে গুলশানে যাই। হঠাৎ দেখলাম তারেক রহমান কার্যালয়ের উত্তর দিকের রাস্তার ফুটপাত দিয়ে হেঁটে আসতেছেন। সঙ্গে দুই-তিনজনকে দেখলাম হেঁটে আসছেন। তিনি জানান, তারেক রহমান যখন হেঁটে আসছিলেন তখন পেছনের দিকে তার গাড়িবহর ছিল।

জানা গেছে, গুলশান কার্যালয়ে আসার আগে তারেক রহমান নৌবাহিনীর সদর দপ্তরে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। সেখান থেকে গুলশান-২-এর বাসায় যান। এরপর তিনি হেঁটে গুলশান কার্যালয়ের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছান।

১৭ বছর পর তারেক রহমান গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে আসেন। দেশে ফেরার পাঁচদিনের মাথায় ৩০ ডিসেম্বর মা বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। এরপর থেকে দলের কর্মসূচিসহ সব কিছু একহাতে সামলাতে হচ্ছে তারেক রহমানকে। আগামীকাল রোববার ৪ দিদের সফরে উত্তরাঞ্চলে যাচ্ছেন বিএনপির এই নেতা।

এদিকে, গতকাল শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রায় আট বছর ধরে বিএনপির ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান। ২০১৮ সাল থেকে দলীয় সিদ্ধান্তে তাকে এ দায়িত্বে আনা হয়। অবশেষে ‘ভারমুক্ত’ হয়ে দলের চেয়ারম্যান হতে যাচ্ছেন তিনি। অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে আসতে পারে তারেক রহমানের চেয়ারম্যান পদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। যদিও দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, আবার এই পদ ব্যবহারও করা হচ্ছে না। এ অবস্থায় দলীয় প্রার্থীর প্রচারের ব্যানার-ফেস্টুনে কার ছবি ব্যবহার করা যাবে, সেটা এখনো মীমাংসিত হয়নি।

বিএনপির এক নেতা বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের ভেতরে এখন সবচেয়ে সংবেদনশীল প্রশ্ন-নির্বাচনি প্রচারের ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড, প্রচারপত্রে এবং ডিজিটাল পোস্টারে কার ছবি যাবে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে দ্রুত সমাধানে আসতে হবে বিএনপি নেতৃত্বকে। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি গণমাধ্যমে বলেন, নির্বাচনি পোস্টারে দলীয় প্রধানের ছবি ছাপানোর বিষয় আছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নিতে হবে, আমরা শিগগির কমিশনে যাব।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত