
সরকার ২০২৮ সাল থেকে যে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, তাতে চতুর্থ শ্রেণিতে দুটি বিষয় যুক্ত করার কথা বলা হলেও এখন সে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ের বিদ্যমান শিক্ষাক্রমেই ২০২৭ সালে চতুর্থ শ্রেণিতে ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ বিষয়ের পাঠ্যবই যুক্ত হচ্ছে। আর ২০২৮ সালে নতুন শিক্ষাক্রমে এই শ্রেণিতে ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ এবং ক্রীড়া বিষয়ের পাঠ্যবই অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার সকালে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রাথমিকের পাঠ্যক্রমে সংগীত ও নৃত্যকলা অন্তর্ভুক্তি নিয়ে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত এসেছে।
সভা শেষে দুপুরে এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু বলেন, ২০২৮ সালে নতুন শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণিতে শিল্প ও সংস্কৃতি এবং ক্রীড়া বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা আছে? এর আগে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে বিদ্যমান শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণিতে শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ের একটি পাঠ্যবই যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সভায়। এই বইতে চারটি অধ্যায়ে চারু ও কারুকলা, সংগীত, নৃত্যকলা এবং নাট্যকলার পাঠ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সভায়।
তার আগে গত সোমবার বিকালে সচিবালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসে নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী আনম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছিলেন, আমরা প্রথমত বিদ্যমান শিক্ষাক্রমকে সঠিকভাবে পরিমার্জন করে, বাস্তব সম্মতভাবে এটাকে আমরা রিভাইজ করে এই ২০২৭ সালে দিচ্ছি। আর টোটাল চেইঞ্জ যেটা আশা করছেন, সেটা আমরা কাজ শুরু করেছি। ২০২৮ সালে গিয়ে আপনারা সেটা দেখতে পারবেন, এখন নয়। কারিকুলাম খুব সুন্দর হচ্ছে এবং চারটি নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে। সেদিন এরআগে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন নতুন শিক্ষাক্রমে চারটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা জানান। ২০২৮ সাল থেকে যে নতুন শিক্ষাক্রমে যে চারটি বিষয় যুক্ত করার কথা বলা হয়, এরমধ্যে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি নিয়ে দুটি বিষয় পড়তে হবে চতুর্থ শ্রেণি থেকে। আর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে যুক্ত হবে ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’। এছাড়া নতুন শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজি ছাড়াও তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে কোনো একটি বিষয়ের সঙ্গে ‘বড় অধ্যায়’ যুক্ত হতে পারে।
তবে বুধবার সভার পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. তানভীর মিয়া বলেন, আগামী বছর চতুর্থ শ্রেণির ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ বিষয়ের পাঠ্যবইটি ছোট পরিসরে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বইটি হবে ৪০ পৃষ্ঠার মত।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সাখাওয়াৎ হোসেনের সভাপতিত্বে এ সভা হওয়ার বিষয়টি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মন্ত্রণালয়, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এনসিটিবি, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিষয়ের শিক্ষকরা অংশ নেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণের ফলে আগামী ৫ বছরে এ খাতে ৫০ থেকে ৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণের ফলে ভবিষ্যতে বিপুল সংখ্যক বিশেষায়িত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হবে। এতে সংগীত, নৃত্যকলা, চারুকলা, নাট্যকলা ও ক্রীড়া বিষয়ে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এসব বিষয়ে একটি টেকসই ‘ক্যারিয়ার পাথওয়ে’ গড়ে উঠবে। আগামী ৫ বছরে এ খাতে প্রায় ৫০-৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।
ববি হাজ্জাজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহযোগিতা চেয়ে বলেন, আমরা চাই আপনাদের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাক। সে লক্ষ্যে কীভাবে তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষকতা-সম্পর্কিত প্রস্তুতি যুক্ত করা যায় এবং কীভাবে যৌথভাবে দক্ষ শিক্ষক তৈরি করা যায় সেসব বিষয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই।