
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের দেয়ালে টানানো রয়েছে আকর্ষণীয় একটি পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও কৃষি তথ্যপত্র। সেখানে একাধিক কিউআর (ছজ) কোড সংযুক্ত করা হয়েছে, যা মোবাইল ফোন দিয়ে স্ক্যান করলেই কৃষি, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য, ভিডিও ও নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে। সরকারের এই ডিজিটাল উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষক ও সাধারণ মানুষের কাছে সহজে তথ্য পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তথ্যপত্রে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে সুস্থ পরিবার গঠন, সঠিক নিয়মে রান্নার পাঁচটি ধাপ, স্বল্প খরচে পুষ্টিঘাটতি পূরণের কৌশল, বসতবাড়িতে পুষ্টিবাগান স্থাপন, স্বাস্থ্যসম্মত রান্নার রেসিপি, ফল সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ, কৃষক মাঠ ব্যবসায় স্কুল এবং গর্ভবতী মা ও শিশুর প্রথম এক হাজার দিনের পরিচর্যাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপযোগী পুষ্টিবাগান স্থাপনের মডেল সম্পর্কেও আলাদা কিউআর কোড সংযুক্ত রয়েছে। ফলে কৃষক ও সাধারণ মানুষ নিজেদের এলাকার পরিবেশ ও জলবায়ুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পুষ্টিবাগান গড়ে তোলার বিষয়ে সহজেই ধারণা নিতে পারছেন। উপজেলা কৃষি অফিসে সেবা নিতে আসা কয়েকজন কৃষক জানান, আগে কৃষি ও পুষ্টি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য জানতে কৃষি কর্মকর্তাদের শরণাপন্ন হতে হতো। এখন স্মার্টফোনের মাধ্যমে কিউআর কোড স্ক্যান করেই ভিডিও দেখে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এতে সময় ও শ্রম দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসার মাজেদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকদের কাছে দ্রুত ও সহজে কৃষি, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।