
প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক বড় সরদার বাড়ির সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এবং বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে 'সোনারগাঁয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি'। মঙ্গলবার কমিটির আহ্বায়ক কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বড় সরদার বাড়ির পূর্ণাঙ্গ কারিগরি পরীক্ষা, শুটিংসংক্রান্ত নথি প্রকাশ, ফাউন্ডেশনের আর্থিক কার্যক্রমের স্বাধীন নিরীক্ষা এবং প্রকৃত কারুশিল্পীদের অধিকার সুরক্ষাসহ ১২ দফা আবেদন জানানো হয়। স্মারকলিপির অনুলিপি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী, ইউনেস্কোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ও সব সদস্য এবং দেশের জাতীয় সংবাদ মাধ্যমের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাঠানো হয়েছে।
এর আগে এসব অভিযোগ নিয়ে ২৯ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সংরক্ষণ কমিটি। ৩১ আগস্ট সোনারগাঁয়ে মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়। স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, ঐতিহাসিক বড় সরদার বাড়ি টানা চার দিন বাণিজ্যিক শুটিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এ সময় উচ্চক্ষমতার জেনারেটর, ভারী ক্যামেরা, সাউন্ড সিস্টেম, ক্যামেরা ক্রেন, ট্রলি ও শক্তিশালী আলোকসজ্জার সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়।
কমিটি জানতে চেয়েছে, শুটিংয়ের আগে হেরিটেজ ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট করা হয়েছিল কি না, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের লিখিত মতামত নেওয়া হয়েছিল কি না, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছিল কি না এবং ভারী সরঞ্জাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো কারিগরি নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না।
জেনারেটরের কম্পন, ভারী সরঞ্জামের চলাচল ও দীর্ঘ সময় শক্তিশালী আলোর তাপে পুরোনো গাঁথুনি, চুনসুরকি, কাঠ, প্লাস্টার, মেঝে ও অলংকরণের ভেতরে ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নির্ধারণে প্রত্নতত্ত্ববিদ, সংরক্ষণ স্থপতি ও কাঠামো প্রকৌশলীদের নিয়ে স্বাধীন বিশেষজ্ঞ দল গঠনের আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে শুটিংয়ের আগের সংরক্ষণ নথি ও আলোকচিত্রের সঙ্গে ভবনটির বর্তমান অবস্থা মিলিয়ে পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে।