ঢাকা সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২১ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

সরিষা খেত থেকে দুই হাজার টন মধু সংগ্রহের সম্ভাবনা

সরিষা খেত থেকে দুই হাজার টন মধু সংগ্রহের সম্ভাবনা

চলনবিল এলাকায় বন না থাকলেও আছে বিস্তীর্ণ সরিষা খেত। প্রতি বছর অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে চলনবিলের মাঠগুলোতে সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ দেখা যায়। দেখে মনে হয় মাঠগুলোতে যেন হলুদ গালিচা বিছানো। এমন দৃশ্য দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। এ সময় দেশের বিভিন্ন এলাকার মৌখামারীরা চলনবিলের সরিষা খেতে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে আসেন।

চলতি মৌসুমে এরই মধ্যে প্রায় ৮০০ খামারি চলনবিল এলাকার সরিষা খেতে মৌবক্স স্থাপন করেছেন। হলুদ ফুলে-ফুলে, নেচে-নেচে, ছুটে-ছুটে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছে খামারিদের পালন করা মৌমাছি। তাই এক সময়ের মৎস্য খ্যাত চলনবিল এখন মধুর বিলে পরিণত হয়েছে। মৌচাষিরা ধারণা করছেন এবার চলনবিল এলাকার সরিষা খেত থেকে আনুমানিক প্রায় ২,০০০ টন মধু সংগ্রহনের সম্ভাবনা রয়েছে। যার মূল্য প্রায় ৩৭ কোটি টাকা। জানা গেছে, প্রতি বছর অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে চলনবিল এলাকার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর, তাড়াশ, সিংড়া, শাজাদপুর, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়ার পশ্চিমাংশসহ এর আশপাশ এলাকার মাঠগুলো ছেয়ে যায় হলুদ সরিষা ফুলে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়। জমি থেকে বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ এলাকার কৃষকরা উদ্বৃত্ত ফসল হিসেবে সরিষার বীজ ছিটিয়ে দেন।

মাঘ মাসে সরিষা তুলে এসব জমিতে বোরো চাষ করেন তারা। অগ্রহায়ণ মাস থেকে পাবনা, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, নড়াইল, গাজীপুর, রংপুর, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মৌখামারীরা মধু সংগ্রহের জন্য চলনবিল এলাকার মাঠগুলোতে অস্থায়ী আবাস গড়ে তোলেন। খামারের মৌবক্সগুলো তারা সরিষা খেতের পাশে স্থাপন করেন এবং কয়েক দিন পর পর মধু সংগ্রহ করেন। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার বড়ভেটখালী গ্রামের মৌখামারী ইমদাদ হোসেন সরিষার মধু সংগ্রহে এসেছেন চলনবিলে। চলনবিলের চাটমোহরের নিমাইচড়া মাঠের সরিষা খেতের পাশে তিনি তার ১৮০টি মৌবক্স স্থাপন করেছেন। ইমদাদ হোসেন জানান, মৌমাছি এখন ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে বক্সে রক্ষিত সাঁচে জমা করছে। চলতি জানুুুয়ারি মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে মধু সংগ্রহ শুরু করতে পারবেন তিনি। এর পর থেকে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার করে মধু সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রায় দুই মাস চলনবিলে মধু সংগ্রহ করবেন তিনি। এ দুই মাসে ছয় থেকে সাত বার মধু সংগ্রহ করতে পারবেন। একেক বারে ৮ থেকে ১০ মণ মধু পাওয়া যাবে বলে ধারণা করছেন তিনি।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ২ মাসে ৬০ থেকে ৭০ মণ মধু পেতে পারেন তিনি। বর্তমান প্রতি মণ মধুর পাইকারি দাম ৭ হাজার টাকা। প্রতি বছর এ এলাকা থকে পাইকাররা মধু কিনে বিভিন্ন কোম্পানীতে সরবরাহ করেন। চলনবিলে প্রায় ১ হাজার মৌচাষি মধু সংগ্রহে আসেন। খামারগুলোতে প্রায় তিন থেকে চার হাজার শ্রমিকের কর্ম সংস্থান হয়। ২০২০ সালে খামারিরা মধুর ভালো দাম পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।

উত্তরবঙ্গ মৌচাষি সমবায় সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রায় আটশত খামারি চলনবিলের বিভিন্ন মাঠে মধু সংগ্রহ করছেন। কয়েক দিনের মধ্যে আরও দুই থেকে ৩০০ খামারি এ এলাকায় মধু সংগ্রহে আসবেন। প্রায় সারা দেশের মৌচাষিরা চলনবিলে মধু সংগ্রহে আসেন। খামারিদের মৌবক্স স্থাপন করতে আমরা এলাকা ভাগ করে দেই। একজন খামারি এক থেকে দেড় কিলোমিটার এলাকায় মধু সংগ্রহ করেন। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি মৌসুমে চলনবিল এলাকায় আনুমানিক প্রায় ২০০০ টন মধু উৎপাদন হবে; যার বাজার মূল্য প্রায় ৩৭ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত