
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন তারা। কিন্তু মনোনয়ন পাননি। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছেন সাতজন। বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে দিনাজপুর-৫ আসনে তালা প্রতীকে এ. জেড. এম. রেজওয়ানুল হক, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে হাঁস প্রতীকে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, কুমিল্লা-৭ আসনে কলস প্রতীকে আতিকুল আলম শাওন, টাঙ্গাইল-৩ আসনে মোটরসাইকেল প্রতীকে মো. লুৎফর রহমান খান আজাদ, ময়মনসিংহ-১ আসনে ঘোড়া প্রতীকে মোহাম্মদ সালমান ওমর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে হাঁস প্রতীকে রুমিন ফারহানা ও চাঁদপুর-৪ আসনে চিংড়ি মাছ প্রতীকে মো. আবদুল হান্নান জয়ী হয়েছেন।
দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এ. জে. এম. রেজওয়ানুল হক ৪ হাজার ৭০২ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। দুই উপজেলার সব কেন্দ্র মিলে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৩ হাজার ৬৫০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আব্দুল আহাদ পেয়েছেন এক লাখ ৮ হাজার ৯৪৮ ভোট। কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে ১৩ হাজার ৯২ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেছেন শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। তিনি হাঁস প্রতীক নিয়ে ৭৯ হাজার ২১০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রতীকের সৈয়দ এহসানুল হুদা পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১১৮ ভোট।
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন পেয়েছেন ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৫০৯ ভোট। টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী লুৎফর রহমান খান আজাদ ১ লাখ ৭ হাজার ৯০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী এস এম ওবায়দুল হক পান ৮২ হাজার ৮৬৯ ভোট। ১২৩টি কেন্দ্রে এ আসনে ৬১ দশমিক ৮৪ শতাংশ ভোট পড়ে। বাতিল হয়েছে ৬ হাজার ২৪০টি ভোট।
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া) আসনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল। সালমান ওমর রুবেল পেয়েছেন এক লাখ আট হাজার ২৬৫ ভোট। অপরদিকে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স পেয়েছেন এক লাখ এক হাজার ৯২৬ ভোট।
ব্যবসায়ী সালমান ওমর রুবেল বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত নেতা। ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রয়াত আলী আসগর বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেলেও পরে তা সালমান ওমর রুবেলকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ব্যাংক ঋণ জটিতলায় শেষ পর্যন্ত রুবেল বাদ পড়লে এই মনোনয়ন পান সাবেক বিচারপতি টিএইচ খানের ছেলে সাংবাদিক আফজাল এইচ খান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনে জয়লাভ করেছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি হাঁস প্রতীকে এক লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী খেজুর গাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট। তাদের দুজনের ভোটের ব্যবধান ৩৮ হাজার ১১৩ ভোট।
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবদুল হান্নান ৭৩ হাজার ৫৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৮৩৩ ভোট এবং জামায়াতের মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬২ হাজার ২৭৩ ভোট। নির্বাচন কমিশন (ইসি) গতকাল ২৯৭টি আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করে। এর মধ্যে বিএনপি জোট ২১২টি ও জামায়াতে ইসলামী জোট ৭৭টি আসন পেয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে জয় পেয়েছেন সাতজন। দল হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি ২০৯টি আসন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন ও শাপলা কলি প্রতীকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি আসন পেয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রিকশা প্রতীকে দুটি আসন পেয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীকে একটি, গণঅধিকার পরিষদ ট্রাক প্রতীকে একটি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) গরুর গাড়ি প্রতীকে একটি, গণসংহতি আন্দোলন মাথাল প্রতীকে একটি ও খেলাফত মজলিস দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে একটি আসনে জয় পেয়েছে।