
কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তের নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে একটার দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তে নাফ নদীর শূন্যরেখায় এ ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আহত যুবকের নাম মোহাম্মদ শহিদুল। তিনি উখিয়ার বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১৬) এফ-৫ ব্লকের বাসিন্দা চান মিয়ার ছেলে। বিস্ফোরণে তার ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বিজিবির উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ওই রোহিঙ্গা যুবক আশ্রয়শিবির থেকে অবৈধভাবে বের হয়ে সীমান্তের নাফ নদীর শূন্যরেখায় কয়েকজন জেলের সঙ্গে মাছ ধরতে যান। একপর্যায়ে সেখানে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং তিনি গুরুতর আহত হন।
পুলিশ ও বিজিবি সূত্র জানায়, স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় শহিদুলকে উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে বেলা তিনটার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগে ৯ মার্চ উখিয়া সীমান্তের নাফ নদীতে স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. শাকের নামের আরেক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হন। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার বাড়ি কুতুপালং আশ্রয়শিবিরে। এ ছাড়া গত ১২ জানুয়ারি টেকনাফের হোয়াইক্যাং সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. হানিফ নামের এক যুবকের বাঁ পা উড়ে যায়। তিনি হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল গ্রামের বাসিন্দা। উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতে নাফ নদীর মধ্যভাগে জেগে ওঠা কয়েকটি দ্বীপের চারপাশ ও সীমান্তের শূন্যরেখায় মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে। এসব স্থানে মাছ ধরতে নামলে মাইনের বিস্ফোরণে জেলেরা আহত হচ্ছেন। হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজালাল বলেন, স্থলমাইনের আতঙ্কে কয়েক হাজার বাংলাদেশি জেলে এখন নাফ নদীতে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না।