ঢাকা সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

তিন মাসের জ্বালানির মজুত নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার

তিন মাসের জ্বালানির মজুত নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার

সব ধরনের জ্বালানির তিন মাসের মজুত নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। গতকাল রোববার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান। তিনি বলেন, যাদের সঙ্গে আমাদের চুক্তি ছিল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তারা অনেকেই ফোর্স মেজর (চুক্তি পালন করতে না পারলে দায় মুক্তি সংক্রান্ত ধারা) ডিক্লেয়ার করেছে। এজন্য জ্বালানি সংগ্রহে আমাদের নতুন নতুন উৎস অনুসন্ধান করতে হয়েছে। আমরা কিছু ভালো সোর্স পেয়েছি। তাদের অনেকের সঙ্গে আমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। যদি এটা বাস্তবায়ন হয় আমরা প্রয়োজনে তাদের কাছ থেকে আগামী তিন মাসের জ্বালানি সংগ্রহ করার জন্য সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। এটা ডিজেলের ক্ষেত্রে। আর পেট্রোল ও অকটেনের ক্ষেত্রে আনুমানিক তিন মাসের মতো আমরা কিন্তু নিশ্চিত করতে পেরেছি, অর্থাৎ আমাদের কাছে সেটা রেডি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাসের জন্য জ্বালানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি। এপ্রিল মাসের ডিজেলের চাহিদা পূরণের প্রস্তুতি এরইমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, আমরা যদি প্রত্যেকে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি ব্যবহার করি, তাহলে পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ লাইন থাকবে না। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, পেট্রল পাম্পে যে লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে, তা মূলত অকটেন ও ডিজেলের জন্য। অকটেনের চাহিদা মোট চাহিদার প্রায় ৬ শতাংশ, পেট্রোলেরও প্রায় ৬ শতাংশ অর্থাৎ মোট ১২ শতাংশ। বাকি ৮৮ শতাংশ চাহিদা খুবই স্বাভাবিকভাবে পূরণ হচ্ছে। সে কারণে সামগ্রিক কোনো সংকট আমরা দেখছি না। তবে কিছু জায়গায় অসৎ উদ্দেশে কিছু ঘটনা ঘটছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার তার মেশিনারিজ নিয়ে কাজ করছে। আজ সকালেও আমরা দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছি। সেখানে আলোচনা হয়েছে কীভাবে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া যায়। বিপিসি এবং পদ্মা, মেঘনা, যমুনা কোম্পানির পক্ষেও যদি কোনো ত্রুটি থাকে, তা সংশোধন করে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও মসৃণ করার চেষ্টা চলছে, যাতে জনদুর্ভোগ কমে এবং জনগণও দায়িত্বশীল আচরণ করে। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। যুদ্ধ শেষ হলেও এর প্রভাব কিছুদিন থাকতে পারে। সে কারণেই আমরা তিন মাসের জ্বালানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা করছি। ডিজেলের ক্ষেত্রে একটি বড় বিষয় হচ্ছে স্টোরেজ ক্যাপাসিটি। শুধু জ্বালানি আনলেই হবে না, সংরক্ষণের ব্যবস্থাও বাড়াতে হবে। আমরা সমান্তরালভাবে সেই সক্ষমতা বাড়াচ্ছি। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর যেমন বিএডিসি, রেলওয়ে এমনকি প্রয়োজনে বেসরকারি খাতের পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোর অব্যবহৃত সংরক্ষণ ক্ষমতাও ব্যবহার করা হবে।

রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে লেখা চিঠির বিষয় জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রীর একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। সেখানে আমাদের অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, আমরা আশাবাদী।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, তিন মাসের মজুত আছে মানে এই নয় যে আমরা এক মাসেই তা শেষ করে ফেলব। আমাদের একটি নির্ধারিত চাহিদা আছে। এই সময় সাশ্রয়ী হওয়া এবং দায়িত্বশীল আচরণ করা খুব জরুরি। সরকার যদি দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করে, তাহলে শেষ পর্যন্ত জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেষে আমি বলতে চাই, এপ্রিল মাসের জন্য ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, এলএনজি, এলপিজি, জেট ফুয়েল এবং ফার্নেস অয়েল সব ধরনের জ্বালানির চাহিদা পূরণের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। তিন মাসের সংরক্ষণ নীতিও বাস্তবায়নের পথে। পেট্রোল ও অকটেনের ক্ষেত্রে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে, ডিজেলের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া চলছে। যারা বোতলে ভরে বেশি দামে জ্বালানি বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত অভিযান চলমান বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত