ঢাকা সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

নতুন নাম ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’

মঙ্গল শোভাযাত্রা স্থায়ীভাবে বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট
নতুন নাম ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে প্রতিবছর বাংলা নববর্ষে অনুষ্ঠিত হওয়া শোভাযাত্রার নাম এখন থেকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ হবে। সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান, পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার নাম নিয়ে দীর্ঘদিন চলা বিতর্কের অবসান ঘটাতে এই পরিবর্তন করা হয়েছে।

গত বছর পহেলা বৈশাখে চারুকলা থেকে বের হওয়া শোভাযাত্রার নাম ছিল ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’। তার আগে এটি ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে পরিচিত ছিল। সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখন থেকে নববর্ষের শোভাযাত্রা ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে অনুষ্ঠিত হবে। এটি বাংলার ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক ভাবকে আরও সুসংহত করবে।’

তিনি আরও জানান, পহেলা বৈশাখে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানসহ অন্যান্য সকল সাংস্কৃতিক আয়োজনের ব্যবস্থা থাকবে। চারুকলা থেকে যে শোভাযাত্রা বের হয়, তার সব বৈশিষ্ট্য এবং সাংস্কৃতিক রূপ ও সৃজনশীলতা অটুট থাকবে। নতুন নামকরণে শোভাযাত্রার ধারাবাহিকতা এবং প্রামাণ্যতা বজায় থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী জানান, বৈশাখী শোভাযাত্রা শুধু একটি নাম নয়, এটি বাংলার জনগণের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে বহন করবে। প্রতিটি বছর নববর্ষের দিনটি উদযাপনের মাধ্যমে জনগণ তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সম্মান জানাবে। তিনি বলেন, নতুন নামকরণে শোভাযাত্রার সংস্কার ও পরিচিতি আরও শক্তিশালী হবে এবং এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, নতুন নামকরণ প্রক্রিয়ায় সকল পক্ষের মতামত বিবেচনা করা হয়েছে। এই নামকরণে নববর্ষের শোভাযাত্রার ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক মান বজায় থাকবে। প্রতিটি বছরের মতো এবারও চারুকলা থেকে শোভাযাত্রা শুরু হবে এবং শহরের বিভিন্ন প্রধান সড়ক অতিক্রম করে নতুন বছরের সূচনা ঘটাবে।

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও সংহত করতে চাই। এটি জনগণের মধ্যে উৎসবের আনন্দ ও একাত্মতা বৃদ্ধি করবে।’

তিনি আরও বলেন, পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে শিল্পকলা, লোকনৃত্য, সাংস্কৃতিক চিত্র এবং অন্যান্য সৃজনশীল উপস্থাপনাগুলি থাকবে। সকল আয়োজন পূর্বের মতোই সম্পূর্ণ হবে, শুধু নাম পরিবর্তন হবে। এই নামকরণ আগামী থেকে চূড়ান্তভাবে প্রয়োগ করা হবে এবং নতুন রূপে শোভাযাত্রার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।

মঙ্গল শোভাযাত্রা স্থায়ীভাবে বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট:

পহেলা বৈশাখে আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রা স্থায়ীভাবে বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর হাইকোর্ট বিভাগ-এ একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। গতকাল রোববার জনস্বার্থে এ রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন।

রিটে সংস্কৃতি, ধর্ম ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা জেলা প্রশাসক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য এবং চারুকলা অনুষদের ডিনসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

রিটকারী আইনজীবী বলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে বিতর্ক থাকায় এবং নাম পরিবর্তনের বিষয়টি বারবার সামনে আসায় একটি চূড়ান্ত সমাধানের লক্ষ্যে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

আবেদনে দাবি করা হয়, মঙ্গল শোভাযাত্রা প্রাচীন বাঙালি ঐতিহ্য নয়; বরং ১৯৮৯ সালে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে শুরু হওয়া একটি কার্যক্রম, যা পরবর্তীতে পহেলা বৈশাখের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, শোভাযাত্রায় ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রতীক ও উপস্থাপনা ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে এবং এতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে।

সংবিধানের ৩১, ৩২ ও ৪১ অনুচ্ছেদের আলোকে রিটে বলা হয়েছে, এ আয়োজন জনগণের আইনের সুরক্ষা, জীবনের অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থি হতে পারে।

রিটে পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন, প্রচার, অনুমোদন বা যেকোনো ধরনের কার্যক্রম থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত রাখতে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত