ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

সিরাজগঞ্জে নেপিয়ার চাষে ফিরছে কৃষকের সচ্ছলতা

সিরাজগঞ্জে নেপিয়ার চাষে ফিরছে কৃষকের সচ্ছলতা

সিরাজগঞ্জে নেপিয়ার ঘাসসহ বিভিন্ন জাতের ঘাস চাষাবাদে সচ্ছলতা ফিরছে কৃষকের। কম খরচে এ ঘাস চাষাবাদে বেশি লাভবান হচ্ছেন গো-খামারিরা। ফলে প্রান্তিক কৃষকরা এ চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এবার জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৩ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমিতে নেপিয়ারসহ বিভিন্ন জাতের ঘাস চাষাবাদ করেছেন কৃষকরা। এর মধ্যে স্থায়ী ২৮৫ ও অস্থায়ী ৩ হাজার হেক্টর জমিতে এ ঘাস চাষাবাদ করা হয়েছে। এসব ঘাসের মধ্যে নেপিয়ার পাকচং, নেপিয়ার, দাড়াঁ পিও-৪, জার্মান, পাড়া, এপ্রিল, এপি ঘাস এবং দেশীয় জাতের দুবলা, দোল ও ধুমচা ঘাস উল্লেখযোগ্য।

নেপিয়ার পাকচং ও নেপিয়ার ঘাসসহ বিদেশি জাতের ঘাস চাষে প্রতিবছর ডিসেম্বর থেকে জমিতে কাটিং রোপণ করা হয়। বিশেষ করে কম দামে গাজীপুর ও সাভার থেকে এ কাটিং সংগ্রহ করে জমিতে রোপণ করা হয়। এছাড়া জেলা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস এলাকায় নেপিয়ার ঘাসের নার্সিং থেকে কৃষকদের কাটিং দেওয়া হয়ে থাকে। এ চাষ ৬ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে থাকে এবং অন্যান্য জাতের ঘাস সারা বছরই চাষ করা যায়।

জেলার সবকয়টি উপজেলাসহ বিশেষ করে বাঘাবাড়ি মিল্কভিটা এলাকার চরাঞ্চলসহ শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়া উপজেলায় এ ঘাস বেশি চাষ হয়ে থাকে। জেলায় প্রায় ছোট বড় ২০ হাজার গো-খামার রয়েছে। এর মধ্যে উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুরে খামারের সংখ্যা অনেক বেশি। স্থানীয় হাটবাজার থেকে গো-খামারিরা ভালো দামে এ ঘাস ক্রয় করে। এতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা এখন লাভবান হচ্ছে। পতিত জমি, সড়ক, পুকুরপাড় ও বাড়ির আঙিনায় নেপিয়ার ঘাস চাষ হয়ে থাকে। এছাড়া যমুনার তীরবর্তী বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলেও এ দেশি বিদেশি ঘাস চাষ হয়ে থাকে। এসব চরের বিভিন্ন স্থানে গরু ও মহিষের খামারও রয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, চরাঞ্চলের কৃষকরা এ ঘাস নিজেদের গো-খামারের চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে থাকে এবং এসব ঘাসের মধ্যে নেপিয়ার ঘাসের চাহিদা বেশি। কম খরচে এ ঘাস চাষাবাদে অনেক কৃষকের সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। এ কারণে চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে এ চাষাবাদ প্রতিবছরই বাড়ছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা এ চাষবাদে ঝুঁকে পড়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলছেন, এ জেলার বিভিন্ন স্থানে এসব দেশি বিদেশি ঘাস চাষাবাদে স্থানীয় কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে প্রান্তিক কৃষকরা এ লাভজনক ঘাস চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছে। এ ঘাষ চাষে অনেক কৃষকের সচ্ছলতা ফিরে এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত