
নীলফামারীর জলঢাকায় চাহিদার অতিরিক্ত বই সংগ্রহের কারণে বিপুল পরিমাণ সরকারি পাঠ্যবই গোডাউনে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ এসব বই পৌরশহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পুরাতন কক্ষে স্তূপ করে রাখা হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চলতি ও গত শিক্ষাবর্ষের মিলিয়ে মোট ৬১ হাজার ২৩৪ পিস বই এখনো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এর মধ্যে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের ২৮ হাজার ৫৫০ পিস এবং ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ৩২ হাজার ৬৮৪ পিস বই রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকায় অনেক বই ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে।
পৌরশহরের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পুরোনো কক্ষেই এসব বই রাখা হয়েছে। আলহাজ মোবারক হোসেন অণির্বাণ বিদ্যাতীর্থ উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে নবম শ্রেণির কয়েক হাজার বই রয়েছে। জলঢাকা সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ ও পুরোনো গোডাউনে মাদ্রাসা ও মাধ্যমিক শাখার বই স্তূপ করে রাখা হয়েছে। একইভাবে জলঢাকা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একাধিক কক্ষে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির হাজার হাজার বই এলোমেলোভাবে পড়ে আছে।
বিশেষ করে পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনের টিনের চালা নষ্ট থাকায় বৃষ্টির পানি পড়ে অনেক বই ভিজে যাচ্ছে, ফলে দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে মোট ৭ লাখ ৯৮ হাজার ৯৪০ পিস বই বরাদ্দ পেয়ে তার মধ্যে ৭ লাখ ৭০ হাজার ৩৯০ পিস বিতরণ করা হয়। একইভাবে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৬১০ পিস বই এসে ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৯২৬ পিস বিতরণ করা হয়েছে। বাকি বইগুলোই উদ্বৃত্ত হিসেবে পড়ে আছে।
অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আগে থেকেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী বইয়ের চাহিদা পাঠায়। তারপরও অতিরিক্ত বই গ্রহণ করায় রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় হচ্ছে এবং প্রতিবছর নতুন বই নষ্ট হচ্ছে। অথচ অনেক শিক্ষার্থী বই সংকটে পড়ে পুরোনো বই দিয়ে পড়াশোনা করতে বাধ্য হয়। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আশরাফুজ্জামান সরকার বলেন, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়ের চাহিদা তিনি পাঠাননি, এটি তার পূর্বসূরি পাঠিয়েছিলেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। উদ্বৃত্ত বইগুলো নিলামের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়ার কথাও জানান।
অন্যদিকে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের বই বিতরণ নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মতিউর রহমান খান পাঠান বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসের চাহিদার ভিত্তিতেই বই সরবরাহ করা হয়। অতিরিক্ত চাহিদা পাঠানোকে তিনি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে বলে জানান।