ঢাকা বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ঈশ্বরদীতে তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত, কৃষি উৎপাদনে শঙ্কা

ঈশ্বরদীতে তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত, কৃষি উৎপাদনে শঙ্কা

বৈশাখের শুরু থেকেই তীব্র তাপপ্রবাহ ও উচ্চ আর্দ্রতায় পাবনার ঈশ্বরদীসহ আশপাশের এলাকায় জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষি শ্রমিক ও দিনমজুররা। অল্প সময় কাজ করলেই তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঈশ্বরদীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ।

এর আগে, গত ৪ এপ্রিল মৌসুমের প্রথম তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি। পরবর্তীতে কিছুটা কমলেও ১২ এপ্রিল থেকে আবার তাপপ্রবাহ শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে। নববর্ষের দিন (১৪ এপ্রিল) তাপমাত্রা দাঁড়ায় ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে, যা পরদিন আরও বেড়ে নতুন রেকর্ড গড়ে।

এই তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। তপ্ত রোদে কাজ করতে গিয়ে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন শ্রমিকরা। শহরের শৈলপাড়া এলাকায় ইট ভাঙার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক শফিকুল আলম জানান, এখন আর আগের মতো টানা কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। কিছুক্ষণ কাজ করলেই শরীর ভেঙে পড়ছে, তাই বারবার বিরতি নিতে হচ্ছে।

গরমের প্রভাবে শহরের রাস্তাঘাটেও মানুষের উপস্থিতি কমে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। এতে গণপরিবহন চালকদের আয়ও কমে গেছে। অটোরিকশা চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, দুপুরের দিকে যাত্রী একেবারেই কম থাকে, ফলে আয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে, তীব্র গরম থেকে বাঁচতে দোকানিরা দোকানের সামনে পর্দা ঝুলিয়ে রাখছেন। কিন্তু ক্রেতা কমে যাওয়ায় ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। স্টেশন রোডের ব্যবসায়ী টোকন জানান, দোকান খোলা থাকলেও বিক্রি অনেক কমে গেছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল বাতেন বলেন, তাপপ্রবাহে পানিশূন্যতা ও বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই বেশি করে পানি, লেবুর শরবত ও ডাবের পানি পান করা, রোদ এড়িয়ে চলা, ঢিলেঢালা পোশাক পরা এবং ছাতা ব্যবহার করা জরুরি। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের বিষয়ে বাড়তি সতর্ক থাকার কথা বলেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন জানান, অতিরিক্ত তাপদাহে কৃষি শ্রমিকদের কর্মক্ষমতা কমে যাচ্ছে, ফলে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরাসরি রোদে কাজ করায় পানিশূন্যতা ও শারীরিক দুর্বলতা বাড়ছে।

তিনি কাজের ফাঁকে বিরতি নেওয়া, বেশি করে তরল খাবার গ্রহণ এবং দুপুরের তীব্র রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি মাঠে কাজের সময় টুপি ব্যবহারের কথাও বলেন।

কৃষি উৎপাদনে শঙ্কা,জনজীবন বিপর্যস্ত,ঈশ্বরদী
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত