
তেহরানের ইউরেনিয়াম মজুত ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দূরত্ব না ঘুচলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ শেষের শর্ত নিয়ে আলোচনা করতে গতকাল শুক্রবার পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির সঙ্গে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছে পশ্চিম এশীয় দেশটির গণমাধ্যম। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ বার্তা ইরানিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দুইদিন পর এ বৈঠক হল বলে ইরানি আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম ও ইসনার বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। যুদ্ধ শেষ করতে এবং মতবিরোধ মিটিয়ে ফেলতে একটি রূপরেখা দাঁড় করানোর চেষ্টায় নাকভি দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগে সহায়তা করছেন, বলেছে ইসনা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, আলোচনায় ‘কিছু ভালো লক্ষণ’ দেখা যাচ্ছে; কিন্তু তেহরান যদি হরমুজ প্রণালীতে টোল কার্যকর করে তাহলে কোনো সমাধানই হবে না।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই তেহরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় এবং এখন পর্যন্ত তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো নৌযান প্রণালী দিয়ে ঢুকতে বা বের হতে পারেনি। ‘কিছু ভালো লক্ষণ আছে। আমি অতিরিক্ত আশাবাদী হতে চাই না, দেখা যাক সামনের কয়েকদিনে কী হয়,’ বলেছেন তিনি।
দুই পক্ষের মধ্যে ‘ব্যবধান কমে এসেছে’ বলে বৃহস্পতিবার ঊর্ধ্বতন এক ইরানি সূত্রও রয়টার্সকে বলেছেন। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে মতভেদ এখনও প্রকট। পশ্চিম এশিয়ার এ যুদ্ধ এরই মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে জোর ধাক্কা দিয়েছে, তেলের দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে মূল্যস্ফীতি কোথায় গিয়ে পৌঁছায় তা নিয়েও অনেকের মধ্যে শঙ্কা কাজ করছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের অপরিশোধি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়েই গন্তব্যে যেত। এখন সেই সংকীর্ণ জলপথটিতে নৌযান চলাচলে তেহরানের নিষেধাজ্ঞা কেবল জ্বালানিই নয়, সার, খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের সরবরাহে ভয়াবহ বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে শুক্রবার মার্কিন ডলার ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছে পৌঁছেছে, আদৌ কোনো ‘ব্রেক থ্রু’ আসবে কিনা তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সন্দেহে তেলের দামও চড়ছে।
‘আমরা দ্বাদশ সপ্তাহের শেষে চলে এসেছি, যুদ্ধবিরতিরও ছয় সপ্তাহ যাচ্ছে, কিন্তু আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমস্যার সমাধানের কাছাকাছি পৌঁছেছি বলেও মনে হচ্ছে না আমার,’ বলেছেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিনিয়োগ সংস্থা আইজির বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইরানের উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ পাবেই। এই ইউরেনিয়াম দিয়ে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর স্বপ্নে বিভোর বলে দাবি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের। অন্যদিকে তেহরান বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়ামের উদ্দেশ্য পুরোপুরিই শান্তিপূর্ণ। ‘আমরা এটা পাব। আমরা এটা চাই না, দরকারও নেই। হয়তো পাওয়ার পর সেগুলো আমরা ধ্বংস করে ফেলব; কিন্তু কোনোমতেই সেসব আমরা তাদের কাছে রাখব না,’ বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এমনটাই বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের এ মন্তব্যের আগেই ইরানের দুই ঊর্ধ্বতন সূত্র রয়টার্সকে বলেছিল, তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মুজতাবা খামেনি এক ফতোয়া জারি করে বলেছেন, ইরানের ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো যাবে না।
হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলে তেহরান যে ফি বসাতে যাচ্ছে তারও কড়া সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। ‘আমরা এটি খোলা দেখতে চাই, একে অবাধ দেখতে চাই। কোনো টোল চাই না। এটা আন্তর্জাতিক জলপথ,’ বলেছেন তিনি।
ট্রাম্প এ ধরনের শর্ত আগে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনা চুক্তির দিকে না গড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ফের ইরানে হামলা চালাতে পারে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন।
ইরানের সঙ্গে চুক্তির অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদী যুক্তরাষ্ট্র : ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে চুক্তির অগ্রগতি নিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরানে আলোচনায় যোগ দিতে যাচ্ছেন। তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ অবসানের আলোচনা এখন চুক্তি ও নতুন হামলার ‘সীমারেখায়’ অবস্থান করছে। ট্রাম্পের এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতিতে ক্রমবর্ধমান প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব আসিম মুনিরের ভূমিকা নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল আজ তেহরান সফর করবে। আশা করা যায়, এটি আলোচনাকে আরো কিছুটা এগিয়ে নিয়ে নেবে।’ গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধ হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি হয়নি।
সরাসরি সংঘাতের বদলে এখন চলছে বাক্যুদ্ধ। বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়ছে অচলাবস্থার প্রভাব। বিনিয়োগকারী থেকে কৃষক- সবাই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার ইরানের আইএসএনএ সংবাদ সংস্থা জানায়, মুনিরের সফরের উদ্দেশ্য হলো- ইরান সরকারের সঙ্গে ‘আলোচনা ও পরামর্শ’ চালিয়ে যাওয়া। তবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ইরানের অন্যান্য গণমাধ্যমেও একই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
গত এপ্রিলে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি বৈঠক হয়েছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর সেটিই ছিল প্রথম আলোচনা। সেই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মুনির। তিনি দুই পক্ষের প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও দেখান। তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনা ব্যর্থ হয়। তেহরানের অভিযোগ ছিল, ওয়াশিংটন ‘অতিরিক্ত দাবি’ তুলেছে। এরপর থেকে দুই পক্ষ একাধিক প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কাও রয়ে গেছে।
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবফ বুধবার অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন আবার যুদ্ধ শুরু করতে চাইছে। ইরানের ওপর হামলা হলে ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। গালিবফ বলেন, ‘শত্রু প্রকাশ্য ও গোপন তৎপরতা দেখাচ্ছে, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের পরও তারা সামরিক লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি। তারা নতুন যুদ্ধ শুরু করতে চায়।’ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, ওয়াশিংটনের পাঠানো প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করা এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতিতে সংঘাত বন্ধ হলেও হরমুজ প্রণালী এখনও পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়নি। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন হয়।
হরমুজের ভবিষ্যৎ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধের আগে মজুত করা তেলের ভাণ্ডার কমে আসায় বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও চাপ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইউরেনিয়াম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মিশ্র বার্তা : চার মাস ধরে চলা যুদ্ধ অবসানে ওয়াশিংটনের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ভাগ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পক্ষ থেকে মিশ্র সংকেত বা বার্তা বিনিময় হয়েছে। ইরানের বার্তা সংস্থা আইএসএনএ গত বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে জানায়, তেহরান বর্তমানে মার্কিন প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা করছে এবং তাদের প্রতিক্রিয়া বা জবাব প্রস্তুত করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ এই প্রস্তাবটি দুই পক্ষের মধ্যকার ‘ব্যবধান কিছুটা কমিয়ে এনেছে’।
চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ইরানের কাছে নিজেদের সর্বশেষ প্রস্তাবটি পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তেহরানের জবাবের জন্য তিনি ‘কয়েক দিন’ অপেক্ষা করবেন। ট্রাম্প বলেন, ‘কয়েক দিন অপেক্ষা করে যদি আমি একটি যুদ্ধ থামাতে পারি, যদি কয়েক দিন অপেক্ষা করে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে পারি, তবে আমার মনে হয় এটি করাটাই দারুণ একটি বিষয়।’ তবে মূল বিষয়গুলোতে দুই পক্ষ একে অপরের থেকে কতটা দূরত্বে রয়েছে তা এখনও অস্পষ্ট। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ধরে রাখার বিষয়ে ইরানের জেদ এবং হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান কী, তা পরিষ্কার নয়।
রয়টার্স বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি একটি নির্দেশনা জারি করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে যে, দেশটির প্রায় অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়ামের মজুত কোনোভাবেই বিদেশে পাঠানো যাবে না।
ইরান দীর্ঘদিন ধরেই শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারের পক্ষে জোর দিয়ে আসছে, যা সরাসরি মার্কিন অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বর্তমানে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় সমৃদ্ধ করা প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতার চেয়ে এক ধাপ দূরে।
সর্বশেষ এই প্রস্তাবটি পাঠানোর আগে ওয়াশিংটন ইরানের একটি পাল্টা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল। তেহরান টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ওই পাল্টা প্রস্তাবে আলোচনার জন্য দুই স্তরের একটি কাঠামোর রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল। যার প্রথম ধাপে সব যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুতা অবসানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল এবং দ্বিতীয় ধাপে পারমাণবিক ইস্যুটি নিয়ে আলোচনার কথা বলা হয়েছিল, যা ইরানের শর্ত পূরণের ওপর নির্ভরশীল ছিল। গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ইরান কি তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ নিজের কাছে রাখতে পারবে? জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘না’।
পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা : এদিকে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে পাকিস্তান তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা একের পর এক তেহরান সফর করছেন। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি বুধবার ইরান সফর করেছেন, যা এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে তার দ্বিতীয় সফর ছিল। গত বৃহস্পতিবার ইরানি গণমাধ্যম জানায়, ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের বৃহস্পতিবার তেহরানে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে পরবর্তীতে আল অ্যারাবিয়া’র একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, মুনির বৃহস্পতিবার ইরান সফর করছেন না।
উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে একমাত্র প্রত্যক্ষ বা সরাসরি বৈঠকের আয়োজন করেছিল ইসলামাবাদ। ফলে এই আলোচনার ক্ষেত্রে তারা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।
হজ শেষ হওয়া পর্যন্ত ইরানে হামলা না চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সৌদির আহ্বান : পবিত্র হজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনো সামরিক অভিযান না চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব। হজের সময় পবিত্র মক্কা নগরীতে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় জমায়েত হয়। এরমধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও হামলা ও পাল্টা হামলা শুরুর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংবাদমাধ্যম নিউ আরব গত বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সৌদি যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছে তারা যেন হজ পর্যন্ত যে কোনো ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকে। এ বছর আরাফাত বা হজের প্রধান দিন হবে আগামী ২৬ মে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের প্রতিনিধিরা কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ বৈঠকে ইরানে এ মুহূর্তে কোনো হামলা না চালাতে অনুরোধ করেছে তারা। দেশগুলো বলেছে, নতুন করে সংঘাত শুরুর চেয়ে কূটনীতিকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত হবে।
আল-আরাবিয়া জানিয়েছে, আরব দেশগুলো এ ব্যাপারে এক অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে তারা হজের বিষয়টিকে চিন্তায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।
দেশগুলো মার্কিন সরকারকে আরও জানিয়েছে, হজের সময় কোনো হামলা হলে এই পুরো অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজ করতে আসা লাখ লাখ মানুষ আটকা পড়ে যেতে পারেন। এর আগে গত ২৮ মে ইরানে আকস্মিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েল। ওই সময় পবিত্র রমজান মাস চলছিল।
ইসরায়েলকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের থাড ক্ষেপণাস্ত্রের অর্ধেক মজুত শেষ : ওয়াশিংটনের অত্যাধুনিক আকাশ হামলা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নাম টার্মিনাল হাই অলটিচিউড এরিয়া ডিফেন্স বা সংক্ষেপে থাড। যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘ইন্টারসেপ্টর মিসাইল’ বা বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে আকাশ পথে থেকে আসা ছোট, মাঝারি ও দূর পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা যায়।
সম্প্রতি এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলকে সুরক্ষা দিতে মার্কিন থাড মিসাইলের অর্ধেক মজুত ফুরিয়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল।
২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশি কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও কর্মকর্তা নিহত হন। ওই ঘটনার পর প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে ইরান।
মূলত এসব হামলা থেকে ‘বন্ধু’ ইসরায়েলকে বাঁচাতে এই গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুতের অর্ধেক খরচ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বৃহস্পতিবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ২০০টিরও বেশি থাড মিসাইল ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি, বন্ধুকে বাঁচাতে আরও ১০০টি এসএমণ্ডথ্রি ও এসএমণ্ডসিক্স বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করেছে ওয়াশিংটন। অপরদিকে, নিজেদের সুরক্ষায় ১০০টিরও কম অ্যারো ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহার করেছে ইসরায়েল। ডেভিড স্লিং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকেও ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। সবচেয়ে বেশি উচ্চতা থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে অ্যারো সিস্টেম ব্যবহার হয়। অ্যারো ২ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও মহাকাশে কাজ করে। অপর দিকে, অ্যারো ৩ বায়ুমণ্ডলের ওপরে কাজ করে। একটি অ্যারো ৩ মিসাইল নির্মাণের খরচ ২ থেকে ৩ মিলিয়ন ডলার।