ঢাকা শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

‘শিশু স্বর্গ’ মডেল বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

‘শিশু স্বর্গ’ মডেল বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বাংলাদেশ উদ্ভাবিত বিশেষায়িত ও যুগান্তকারী স্বাস্থ্যসেবা মডেল ‘শিশু স্বর্গ’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উপস্থাপন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে এ মডেলকে গত দুই দশকের গবেষণালব্ধ ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, এর মাধ্যমে শিশুদের প্রতিবন্ধীতা শনাক্তকরণের গড় বয়স পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে মাত্র আট মাসে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ফলে শৈশবের একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই প্রয়োজনীয় সেবা ও সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

গত বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভার হোটেল রয়্যালে অনুষ্ঠিত ৭৯তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে ‘শিশু স্বর্গ’ মডেলটি উপস্থাপন করা হয়। এতে বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি এবং ২০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার ৪০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। সভায় উপস্থিত আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও প্যানেল আলোচকদের কাছ থেকে মডেলটি ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রতিবন্ধীতাকে শুধু চিকিৎসাবিষয়ক সমস্যা হিসেবে নয়, বরং সামাজিক ও পরিবেশগত বাস্তবতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিষয় হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধীতা মূলত তখনই প্রকট হয়ে ওঠে, যখন সমাজ প্রয়োজনীয় সহায়ক পরিবেশ ও উপকরণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়। কোনো শিশু দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণক্ষমতায় সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হলেও, যথাসময়ে তাকে প্রয়োজনীয় চশমা, শ্রবণযন্ত্র বা সহায়ক প্রযুক্তি প্রদান করা গেলে তার স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ গত ২০ বছরের গবেষণার ভিত্তিতে ‘শিশু স্বর্গ’ মডেলটি তৈরি করেছে। শতাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এ মডেল বর্তমানে প্রতিবন্ধীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে একটি কার্যকর ও টেকসই কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে এমন পরিবারগুলোর প্রায় ৭৫ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। এ বাস্তবতায় স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচনা করে সরকার দেশব্যাপী ‘শিশু স্বর্গ’ মডেল সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এম এ মুহিত জানান, কার্যক্রমটি বাস্তবায়নে ছয় স্তরবিশিষ্ট একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের স্টিয়ারিং কমিটি সরাসরি এ কার্যক্রম তদারকি করছে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় প্রশাসন থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা শুধু চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের বিষয় নয়, বরং এটি বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক মানবাধিকার উদ্যোগ।

প্রতিমন্ত্রীর মূল বক্তব্যের পর আয়োজিত প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন জেনেভা ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের হুবার্ট ভুয়াগনাত, সাইটসেভার্স ইন্টারন্যাশনালের ড. সারাহ কলিনসন, পাকিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মালিক মুহাম্মদ সাফি এবং সেভ দ্য চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনালের ডেনিস শ্রোয়েডার।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী। এছাড়া বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত