
স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে পরিবর্তন হওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার ও শারীরিক সক্রিয়তার পরিবর্তনের পাশাপাশি ওজন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করাও কাজে আসে।
কোমরের মাপ কমছে : ওজন খুব বেশি না কমলেও যদি কোমরের মাপ ধীরে ধীরে কমতে থাকে, তা হলে শরীরের গঠনে পরিবর্তন আসার ইঙ্গিত মিলতে পারে। সপ্তাহে একবার একই অবস্থায় কোমরের মাপ নোট করে রাখতে পারেন। শুধু একটি দিনের মাপ নয়, কয়েক সপ্তাহের পরিবর্তন দেখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
পুরোনো জামাকাপড় ঢিলে হচ্ছে : আগের প্যান্ট বা জামা যদি কোমর, নিতম্ব, বুক কিংবা উরুর জায়গায় ধীরে ধীরে ঢিলে হতে থাকে, সেটিও শরীরের গঠনে পরিবর্তনের একটি লক্ষণ হতে পারে। তাই ওজনের পাশাপাশি পোশাকের ফিটিংয়ের পরিবর্তনও খেয়াল করুন।
ব্যায়ামে শক্তি বাড়ছে : নিয়মিত শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করলে একই ওজন দিয়ে আগের তুলনায় বেশি বার ব্যায়াম করতে পারা ইতিবাচক পরিবর্তন হতে পারে। তবে শুধু শক্তি বাড়লেই মেদ কমছে-এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। কোমরের মাপ, পোশাকের ফিটিং ও অন্যান্য পরিবর্তনের সঙ্গেও মিলিয়ে দেখা ভালো।
পেশির গঠন স্পষ্ট হচ্ছে : শরীরে চর্বির স্তর কমলে হাত, কাঁধ, পা বা পেটের পেশির গঠন তুলনামূলক স্পষ্ট দেখা যেতে পারে। কয়েক সপ্তাহ অন্তর একই আলো, পোশাক ও ভঙ্গিতে ছবি তুলে রাখলে পরিবর্তন বোঝা সহজ হতে পারে।
ওজন ধীরে ধীরে কমছে : কয়েক দিনে হঠাৎ অনেকটা ওজন কমে গেলে সেটিকে সরাসরি চর্বি কমার প্রমাণ ভাবা ঠিক নয়। খাবারে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বদলালে শরীরের গ্লাইকোজেন ও পানির পরিমাণেও পরিবর্তন হতে পারে, ফলে ওজন দ্রুত ওঠানামা করতে পারে।
তাই প্রতিদিনের ওজন নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে কয়েক সপ্তাহের প্রবণতা দেখুন। সপ্তাহে নিয়মিত ওজন মাপার পাশাপাশি কোমরের মাপ, পোশাকের ফিটিং এবং ব্যায়ামের সক্ষমতার পরিবর্তনও লিখে রাখতে পারেন। স্বাস্থ্যকর ওজন কমানোর ক্ষেত্রে খাবার ও নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখুন, শরীরের চর্বি কমানোর অগ্রগতি শুধু ওজন মাপার যন্ত্র দিয়ে নিশ্চিত করা যায় না। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে ব্যক্তিগত লক্ষ্য ঠিক করাই সবচেয়ে নিরাপদ।