
বাংলাদেশের সৃষ্টি নয়, তবু গত এক দশক ধরে রোহিঙ্গা সংকটের ভার বহন করছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারের জটিল রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে এই সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর চাপ ছাড়া এর সমাধান কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
গতকাল শনিবার সকালে ঢাকায় 'আসন্ন জাতিসংঘ সম্মেলন ও বাংলাদেশ ব্র্যান্ডিং' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশিজ (এনআরবি) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, '১০ বছর হয়ে গেছে, যেটা বাংলাদেশের জন্য একটা বিশাল সমস্যা, বাট ইট ইজ নট বাংলাদেশ'স প্রবলেম। দ্য প্রবলেম ওয়াজ নট ক্রিয়েটেড বাই বাংলাদেশ, দ্যাট ইজ দ্য রোহিঙ্গা ইস্যু। এই রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও এবার ইউএনজিএ-তে একটা সেশন হবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। আমাদের এই রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আমরা অনেক কথা বলছি, আদতে এই সমস্যাটা আরও ঘনীভূত হয়েছে। এই জটিলতার কারণ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেহেতু সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার সরকার, আরাকান আর্মি বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত এবং বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার সেখানে স্বার্থসংশ্লিষ্ট, সে কারণে আঞ্চলিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক চাপ না হলে এ সমস্যার সমাধান করা খুবই কঠিন হয়ে যাবে। সেই জায়গাটাতেও কিন্তু আমি মনে করি, আপনাদের যার যার জায়গা যেখানে যেখানে আছেন, আপনাদের একটা ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি।'
আসন্ন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আলোচ্য বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, '২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে অবশ্যই আমাদের উন্নয়নের অধিকার ঘোষণার চার দশক, ডারবান ঘোষণার রৌপ্যজয়ন্তী, জলবায়ু পরিবর্তন, অতিমারি প্রতিরোধ ও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয়ে আলোচনা হবে।'
এবারের অধিবেশনকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, 'এক ধাপ এগিয়ে একটি মাত্রা যোগ করেছে, যা আপনারা সকলেই বলেছেন যে, এটা বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন যাত্রা, নতুন সম্ভাবনা, নতুন আকাঙ্ক্ষা।'
'বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল এবং সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের যে গল্পটা আমরা এখানে করছি, সেটা কীভাবে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা যায়, সেটা একটা বিশাল সুযোগ আমরা হয়তো পাব।'
এবারের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেখানে বিএনপির যে ফরেন পলিসি, 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' বা 'সবার আগে বাংলাদেশ' প্রতিপাদ্যকে মাথায় রেখে বা সামনে রেখে বাংলাদেশকে তুলে ধরার একটি বিশাল সুযোগ। যেখানে আমাদের জাতীয় স্বার্থ গুরুত্ব পাবে, বাংলাদেশের কী কী সম্ভাবনা আছে সেগুলো গুরুত্ব পাবে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি কীভাবে হতে পারে সেটা গুরুত্ব পাবে। সবকিছু মিলিয়েই এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আলোচনা সভায় ব্যাংক, বিমা, আর্থিক খাত, কূটনীতি, পোশাক খাত, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা খাতসংশ্লিষ্টরা বক্তব্য রাখেন। তারা আসন্ন অধিবেশনে এসব খাতে বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।