ঢাকা রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

চাঁদাবাজি-দুর্নীতি বন্ধ করবে জামায়াত : আমির

১১ দলীয় জোটের ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী লংমার্চ
চাঁদাবাজি-দুর্নীতি বন্ধ করবে জামায়াত : আমির

চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করে ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী লংমার্চ মীরসরাই এলাকায় পৌঁছালে সেখানে অনুষ্ঠিত পথসভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি সমবেতদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা বিদ্যুৎ চান, গ্যাস চান, পানি চান? আপনারা শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকুক চান? আপনারা যে ভোট দিয়েছেলেন, হ্যাঁ ভোট, গণভোট, এটার বাস্তবায়ন চান? আপনারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চান? আপনারা শাপলা গণহত্যার বিচার চান? আপনারা বিডিআরের পিলখানায় যে আর্মি অফিসারদের হত্যা করা হয়েছিল তার বিচার চান? শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার চান? জুলাই গণহত্যার বিচার চান?

সমবেতরা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে বলেন, 'চাই'। এরপর জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, এই সরকার কি এগুলো বাস্তবায়ন করবে বলে বিশ্বাস করেন? সমবেতরা উত্তরে বলেন— 'না'।

জামায়াতে ইসলামের আমির বলেন, তাহলে তৈরি হন। আপনারা রাজি আছেন? এই এলাকায় তো কোনো চাঁন্দাজাজি হয় না? জবাবে উপস্থিতরা বলেন, হয়। তখন জামায়াতে ইসলামের আমির বলেন, এখানেও হয়? চাঁদাবাজি আমরা বন্ধ করব, ইনশাআল্লাহ। দুর্নীতি আমরা বন্ধ করব। মানবিক বাংলাদেশ গড়ব। সবাই একসাথে লড়ব, ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ব। এরপর লংমার্চের গাড়ি বহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়।

এর আগে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পথসভায় সীতাকুণ্ড পৌর সদরের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বক্তব্য দেন। সেখানে বলেন— মানুষের কষ্টার্জিত টাকা এখন চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের পকেটে যাচ্ছে। জামায়াত আমির বলেন, মানুষের আয় বাড়েনি, বরং দায় ও ব্যয় বেড়েছে। মানুষের টাকা কোথায় যায়? চাঁদাবাজদের পকেটে যায়, দুর্নীতিবাজদের পকেটে যায়। এসব পকেট বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, সরকারে আসার আগে তারা যেসব ওয়াদা করেছে, তার মধ্যে একটি-দুইটি কার্ড বিতরণ ছাড়া আর কোনো ওয়াদা তারা রক্ষা করেনি। তার আহ্বান, মানুষের অর্থের অপচয় ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে তিনি জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বানও জানান।

এর আগে বিকেলে ফেনীর পথসভায় জামায়াত আমির সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা দেশের ধ্বংস সাধন করবেন, সর্বপর্যায়ে আপনারা বেপরোয়া-নির্লজ্জ-বেহায়াপনা করবেন, আর বিরোধী দল বসে বসে আঙুল চুষবে? তিনি বলেন, বিরোধী দলের দায়িত্ব হচ্ছে, যেখানেই জনগণের অধিকার নিয়ে টান দেওয়া হবে, সেখানেই গর্জন করা, সেখানেই বাধা দেওয়া, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা। আপনারা জনগণের অধিকার নিয়ে টান দিলে বিরোধীদল কঠোরভাবে তা প্রতিরোধ করবে।

জামায়াত আমির হুঁশিয়ারি দেন, আমরা দলীয় দাবি নিয়ে রাস্তায় নামি নাই। দেশে আবার নতুন করে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। নতুন করে কেউ ফ্যাসিবাদ হওয়ার চেষ্টা করবেন না। এর পরিণাম ভয়াবহ হবে।

এসময় আরও বক্তব্য দেন— এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও জামায়াতের ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদসহ অনেকে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত