ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

সিরাজগঞ্জে পেয়ারা চাষে দিন ফিরছে কৃষকের

সিরাজগঞ্জে পেয়ারা চাষে দিন ফিরছে কৃষকের

সিরাজগঞ্জে এবার পেয়ারা ফল বাগান চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে এ পেয়ারার দাম ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এ চাষে অনেক কৃষকের ফিরে এসেছে সচ্ছলতা। এ লাভজনক ফল বাগান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে কৃষকেরা। জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৪'শ হেক্টর জমিতে এ ফল বাগান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কৃষকেরা এ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চাষ করেছেন। এ জেলার উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ ফল বাগানের চাষ বেশি হয়েছে। এছাড়া চরাঞ্চলেও বিভিন্ন স্থানে এ ফলের চাষ হয়েছে। প্রতিবছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ৫ বছর মেয়াদি এ ফলের চারা রোপণ করা হয়। তবে সারা বছরও হাইব্রিড জাতের পেয়ারা চাষ করা হয়ে থাকে। উঁচু, দোআঁশ ও বালি জাতীয় জমিতে এ বাগান চাষ ভালো হয়। রাজশাহী ও নাটোরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে চারা সংগ্রহ করে জমিতে রোপণ করা হয়। এসব পেয়ারা ফলের জাতের মধ্যে রয়েছে থায়ী, কাজী, বারি-১,২ ও ৩। এ অঞ্চলে থাই ও কাজী জাতের পেয়ারা ফল বাগান চাষ বেশি হয়ে থাকে এবং বাড়ির আঙ্গিনাসহ ঝাড় জঙ্গলে দেশি জাতের পেয়ারা গাছও লাগানো হয়ে থাকে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, এ ফল চাষে প্রথমে জমির ২ গজ পরপর বাঁশ, সিমেন্টের খুঁটি ও জিআই তার দিয়ে স্ট্রাকচার তৈরি করতে হয়। এ স্ট্রাকচার ঘিরে এ ফলের চারা রোপণ করা হয়। প্রায় ৬ মাস পর থেকেই বাগান গাছে ফুল ফুটে। এ ফুল থেকেই পেয়ারা উৎপন্ন হয়। এ বাগানে পেয়ারা প্রায় ১০ গ্রাম হলেই পলি পড়ানো হয়। যেন পশুপাখি এ ফল ক্ষতি না করতে পারে। এ ফল বাগানে ৫ বছর পর্যন্ত ফল উৎপাদন হয়ে থাকে। এ বাগান চাষে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। খরচ কম লাভ বেশি এ ফল বাগান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে কৃষকেরা। এরমধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বড় হামকুড়িয়া গ্রামের হাজী ওমর আলী সরকার (৭১) জানান, আমার ছেলে রাশেদুল ইসলাম ও তার বন্ধু একই এলাকার নাসির উদ্দিন মাস্টার প্রায় সাড়ে ৬ বিঘা জমি লিজ নিয়ে থাই জাতের পেয়ারা চাষ করেছে। গত বছর এ বাগান থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার পেয়ারা ও বড়ই বিক্রি করা হয়েছে। খরচ বাদে এ চাষে অনেক লাভ হয়েছে। কিন্তু একই বাগানে ২ ফলের গাছে উৎপাদন তেমন হয়নি। এজন্য এ বছর বাগানের বড়ই গাছ তুলে ফেলা হয়েছে। এ বছর শুধু পেয়ারার বাগান পরিচর্যা করা হয়েছে। প্রতিদিন ৫/৭ জন করে শ্রমিক এ বাগানে কাজ করছে। এবার বাম্পার ফলনেরও আশা করা হচ্ছে। এ পেয়ারা ৪০/৪৫ টাকা কেজি পাইকারি দরে বিক্রি শুরু হয়েছে। খরচ বাদে প্রায় দ্বিগুন লাভের আশা করছি এবং এ বছরসহ আরো ৪ বছর এ বাগানের ফল উৎপাদন হবে। এ সম্পর্কে নাসির উদ্দিন মাস্টার বলেন, আমরা ২ বন্ধু এ পেয়ারা বাগান চাষ করেছি। গত বছরের চেয়ে এবার বেশি লাভের আশা করছি। এজন্য বাগানের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যাও বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক একেএম মঞ্জুরে মাওলা বলেন, এবার এ ফল বাগান চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। লাভজনক এ বাগান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকেরা। এ চাষে জড়িত কৃষকদের পরামর্শও দেয়া হচ্ছে। এতে অনেক কৃষকের স্বচ্ছলতাও ফিরে এসেছে। বাজারে এ ফলের দাম ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত