
'ভোটের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো সরকার বাস্তবায়ন করলে কোনো কর্মসূচি দেওয়া হবে না' বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সরকার জুলাই আন্দোলনের সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে এবং ৮ দফা দাবি না মানলে আমরা এক দফার আন্দোলনে যাব। তবে ৮ দফা দাবি মানা হলে এক দফার প্রয়োজন হবে না। আর দাবি মানা না হলে এক দফার আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
গতকাল শনিবার গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা থেকে সড়ক পথে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করা লংমার্চের বহরটি পলাশবাড়ীতে পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাদের স্বাগত জানান। পরে সেখানে পথসভা হয়।
শফিকুর রহমান বলেন, সরকার বলেছিল 'এক কোটি মানুষকে চাকরি দেবে'। কিন্তু এক কোটি মানুষের হাতে চাঁদাবাজির চাবি তুলে দিয়েছে। তিনি সারের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট নিয়েও সমালোচনা করেন।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন— জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক আবদুল্লাহ হাসনাত, এবি পার্টির সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবদুল হালিম এবং ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবিরসহ অনেকে। এর আগে বিকালে বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে পথসভায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদেরকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। গত দুই দিন বহু নাটক করা হয়েছে। আমরা কোনো নাটকের পরোয়া করি না। কথা দিচ্ছি— রাস্তায় নেমেছি জনগণের জন্য, প্রয়োজনে জীবন দেব, দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না ইনশাআল্লাহ।
শফিকুর রহমান বলেন, আমরা শুধু ডাক দিয়েছি আসেন, আমরা ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায় করতে চাই। অমনি আপনারা ঘর থেকে বের হয়ে আজকে বগুড়ার এই জায়গাটাকে একটা জনসমুদ্রে আপনারা পরিণত করেছেন। আপনাদেরকে মোবারকবাদ। আমরা কেন এই লং মার্চের ডাক দিলাম? সরকারি দলের রাতের ঘুম হারাম। জায়গায় জায়গায় শুধু বলে, বিরোধীদল এত আগে লং মার্চ করতেছে কেন? আমরা জিজ্ঞেস করি, ক্ষমতায় বসার আগেই জনগণকে অপমান করলেন কেন?
গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ৭০ ভাগ জনগণ রায় দিলো গণভোটে হ্যাঁ বলে। আপনারাও সেই ভোট চেয়েছেন, আমরাও ভোট চেয়েছি। আমরা আমাদের জায়গায় আছি। আপনারা জায়গা পরিবর্তন করলেন কেন? আপনারা যদি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা না করতেন, আজকে আমাদের লং মার্চ করার প্রয়োজন হতো না।
এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুরের উদ্দেশে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চ শুরু হয়।