ঢাকা রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

আন্দোলন আরও কঠোর হবে আপসের সুযোগ নেই

বললেন জামায়াত আমির
আন্দোলন আরও কঠোর হবে আপসের সুযোগ নেই

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দাবি আদায় না হলে আন্দোলন ধারাবাহিকভাবে আরও কঠোর ও শক্তিশালী কর্মসূচির দিকে এগিয়ে নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো আপসের সুযোগ নেই। জীবন চলে গেলেও জাতির সঙ্গে বেইমানি করবেন না তারা বলে জানান তিনি। গতকাল শনিবার দুপুর ৩টায় সাত দফা দাবিতে ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের অংশ হিসেবে খুলনার বাবরী চত্বরে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় ডা. শফিকুর রহমান জানান, তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন। এই রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত একের পর এক আরও শক্তিশালী কর্মসূচি দেওয়া হবে। জনগণের সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের পরই আন্দোলন সমাপ্তির ঘোষণা দিতে চান তারা।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিজয়ী হওয়ার পর সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সেই রায় অস্বীকার করা হচ্ছে। ৭০ শতাংশ ভোটার গণভোটের পক্ষে মত দিলেও সংসদে দাঁড়িয়ে তা না মানার অবস্থান নেওয়া হয়েছে। জনগণের ভোটের রায় নিয়ে এমন অবস্থান মেনে নেওয়া হবে না। রায় বাস্তবায়নে কোনো ধরনের বিলসম্বও সহ্য করা হবে না। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা এ দেশের প্রত্যেক নাগরিকের বিজয় ও মুক্তি চাই। শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন, সাম্যভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না। কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কয়েকটি কার্ড বিতরণ করে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে। কিন্তু সমাবেশে উপস্থিত কেউ কৃষক কার্ড বা অন্য কোনো সুবিধার কার্ড পেয়েছেন কি না, জানতে চাইলে উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়া যায়নি। এক হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকার কার্ড দেওয়ার প্রচার চালানো হলেও গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ না থাকলেও বিল দিতে হচ্ছে, বিদ্যুৎ না পেলেও বিল আসছে। এভাবে জনগণের অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

কৃষি খাতের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কৃষক সার পাচ্ছেন না। অথচ নতুন করে সার ডিলার নিয়োগে ২০, ২৫ ও ৩০ লাখ টাকা থেকে শুরু করে এক কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে হইচই ও সংঘর্ষ হচ্ছে, প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। কিন্তু কৃষকের সারপ্রাপ্তি নিশ্চিত হচ্ছে না। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনসহ গত সাড়ে ১৫ বছরে যারা হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, তাদের বিচারের দাবিতে আমরা রাজপথে নেমেছি। আমরা প্রিয় হাদি হত্যারও বিচার চাই। সরকারি দলের চাঁদাবাজদের হাত থেকে মানুষকে মুক্ত করা, জনগণের অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচার বন্ধ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এসব দাবি কোনো দল বা জোটের একক দাবি নয়, দেশের প্রতিটি মানুষের বাঁচা-মরার প্রশ্ন। জনগণ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। রাজপথে হাজার হাজার নারী-পুরুষের উপস্থিতি ও সমর্থন সেই বার্তাই দিচ্ছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত