
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অসীম ধৈর্য ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে সংকট মোকাবিলা করে বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের পাশে ছিলেন। তার দেখানো পথ অনুসরণ করলেই দেশ এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, সংবাদপত্রের জগৎ একটি বিশাল জগৎ। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে এই জগতের সঙ্গে যার সম্পর্ক সবচেয়ে গভীর, আদর্শিক ও ব্যক্তিগত তিনি হলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ভিত্তি দৃঢ় হয়। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)-এর আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, পাকিস্তান আমল থেকে বিভিন্ন সময়েই সংবাদপত্রের ওপর কমবেশি নিয়ন্ত্রণ ছিল। কিন্তু বাকশালের মাধ্যমে যেভাবে সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল, তা আর কখনো হয়নি। অনেক মানুষ ও পরিবার সাংবাদিকতা কিংবা লেখালেখির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন তাদের সবকিছু বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান সেই অবস্থা থেকে দেশকে ফিরিয়ে আনেন। সংবাদপত্র শিল্প, সাংবাদিকতা, লেখনী ও মুক্তবাক্যের অবাধ প্রবাহ আবার চালু হয়। আর সেই ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান বেগম খালেদা জিয়া। ফলে সংবাদপত্র ও সাংবাদিক সমাজের সঙ্গে তার গভীর ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, আমরা তাকে কাছ থেকে দেখেছি। তার ব্যক্তিত্বের ব্যাপ্তি ছিল বিশাল। তার ইন্তেকালের পর মানুষের যে আবেগ, শোক ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে, তা প্রমাণ করে সমাজের গভীরে তিনি কীভাবে নিজের অবদান রেখে গেছেন। রিজভী আরও বলেন, তার জানাজার দিন মানুষের যে ঢল নেমেছিল, তা কোনোভাবেই সংগঠিত ছিল না। কেউ কাউকে ডাকেনি। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই সাধারণ মানুষ নিজ নিজ তাগিদে রাস্তায় নেমে এসেছিল। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, কেরানি, পানের দোকানদার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অন্তরের টানেই সেখানে উপস্থিত হয়েছিল। তিনি বলেন, অনেকে বলেছেন-ইমাম খোমেনির জানাজার পর এত বড় জানাজা আর দেখা যায়নি। আমার মনে হয়েছে, পুরো ঢাকা শহর যেন মানুষের স্রোতে ভেসে যাচ্ছিল। এটি নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, ছিল মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, কারাগারে নেওয়ার পর তাকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরিকল্পিতভাবে চিকিৎসাবঞ্চিত করে তাকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। দেশ-বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, সব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দেশের মানুষের জন্য অটল ছিলেন। অসীম ধৈর্য নিয়ে সংকট মোকাবিলা করেছেন। তিনি যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, সেই পথ অনুসরণ করলেই দেশ এগোতে পারবে।