
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, খুলনা নগরীকে একটি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের উদ্দেশ। যে-কোনো মূল্যে একটি বাসযোগ্য পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ নগরী গড়ে তোলা হবে।
খালগুলো পরিষ্কার করার জন্য দুই মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আসন্ন বর্ষা মৌসুমের পূর্বেই ড্রেনগুলো এমনভাবে পরিষ্কার করা হবে যাতে বর্ষায় কোথাও জলজটের সৃষ্টি না হয়।’ ড্রেনে বর্জ্য না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান এবং নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার কাজে সফল হওয়া সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশব্যাপী ঘোষিত ‘প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা দিবস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল নগরীর খালিশপুর এলাকায় মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানকালে কেসিসি প্রশাসক এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় গৃহীত এ কর্মসূচির আওতায় নগরজুড়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নগরবাসীর সমস্যা দূর করার জন্যই কেসিসি’র এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এসময় জানানো হয়, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ মোকাবিলায় খুলনা সিটি কর্পোরেশন এরইমধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করেছে এবং নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে টেকসই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। ড্রেন, নালা, আবর্জনার স্তূপ এবং মশার প্রজননস্থল হিসেবে পরিচিত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে। কেসিসি’র এই বিশেষ উদ্যোগের পাশাপাশি নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাসহ বাড়িতে থাকা ফুলের টব, ড্রাম, অব্যবহৃত বালতি বা পরিত্যক্ত টায়ারে যেন পানি জমতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মো. মাসুদ করিম, কঞ্জারভেন্সী অফিসার প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান ও মো. অহিদুজ্জামান খান, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন, সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মো. মনিরুজ্জামান রহিমসহ ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এসময় উপস্থিত ছিলেন। পরে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু পোর্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিপরীত গলি, এস লাইনের মসজিদ, গোয়ালখালী হয়ে বাস্তুহারা পর্যন্ত ড্রেন, বয়রা হাউজিং এস্টেট-এর ১নং সড়ক, ক্ষুদে খালের অবশিষ্ট অংশে চলমান উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন।