
সিরাজগঞ্জে এবার ইরি বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। এ আশা নিয়ে কৃষক-কৃষাণিরা ধানক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইতোমধ্যেই মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কৃষকরা ১ লাখ ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি বোরো চাষাবাদ করেছেন। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ১২৫ মেট্রিক টন।
এ জেলার শস্যভান্ডার খ্যাত চলনবিল এলাকার তাড়াশ, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ ও শাহজাদপুর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলে এ চাষাবাদ বেশি হয়েছে। এছাড়া জেলার অন্যান্য উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ চাষাবাদ ভালো হয়েছে।
যথাসময়ে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ চাষাবাদে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। ইতিমধ্যেই এ ধানক্ষেতের পরিচর্যার কাজ প্রায় শেষ। মাঠজুড়ে ধানক্ষেতে সবুজের সমারোহ সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে পড়ন্ত বিকেলে তরুণ-তরুণীরা সেখানে সেলফিও তুলছেন। তবে খাল-বিল অঞ্চলে এ দৃশ্য চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এবার চরাঞ্চল ও খাল-বিলসহ জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ লাভজনক ইরি বোরো চাষাবাদ করা হয়েছে। এ চাষাবাদে এবার কিছুটা খরচ কম হয়েছে। সরকারি ভাবে বীজ ও সার পেয়েছেন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা।
মাঠজুড়ে ধানক্ষেতের সমারোহ দেখে মনে হচ্ছে, এবার বাম্পার ফলন হবে। তবে বর্তমানে তেল সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে সেচকাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। তারপরও উৎপাদন ও বাজার ভালো থাকলে কৃষকেরা ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন—এমন আশাই করছেন বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক একেএম মঞ্জুরে মওলা আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ইরি বোরো চাষাবাদে বাম্পার ফলনের আশা রয়েছে। এ চাষাবাদে সরকারি ভাবে বিশেষ করে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের মাঝে সার-বীজ বিতরণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ এ চাষে কৃষকদের পরামর্শও দিয়েছেন। আশা করছি, এ চাষাবাদে বাম্পার ফলন ও বাজার ভালো থাকলে কৃষকেরা খুশি হবেন।