প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬
ইসলাম শান্তি, নিরাপত্তা ও মানবতার ধর্ম। ‘ইসলাম’ শব্দের মূলেই রয়েছে সালাম তথা শান্তি ও নিরাপত্তা। অথচ দুঃখজনকভাবে আজকের বিশ্বে ইসলামকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে নানা অপপ্রচার চালানো হয়। বাস্তবে ইসলাম সন্ত্রাসবাদকে শুধু নিষিদ্ধই করেনি, বরং তা প্রতিরোধের স্পষ্ট দিকনির্দেশনাও দিয়েছে। পৃথিবীবাসী যদি ইসলামের এ শিক্ষা যথাযথভাবে ধারণ করতে পারে, তবে সন্ত্রাস ও সহিংসতার জায়গা একদমই সংকুচিত হয়ে আসবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কোরআনের ঘোষণা : উগ্রবাদ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, গুম, ধর্ষণ ও মানুষ হত্যা ইসলামের মৌলিক শিক্ষার পরিপন্থী। ইসলাম নিরপরাধ মানুষের রক্তপাতকে ঘৃণা করে এবং সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আদেশ করে। মানবজীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পবিত্র কোরআন ঘোষণা করেছে, ‘যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কোনো (নিরপরাধ) মানুষকে হত্যা করল, সে যেন পুরো মানবজাতিকে হত্যা করল।’ (সুরা মায়িদা : ৩২)।
এটি মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোরআনের গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা।
সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধের মূলনীতি : ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধের অন্যতম মূলনীতি। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজে সন্ত্রাসবাদের বীজ গজানোর সুযোগ কমে যায়। অন্যায় শাসন, বৈষম্য, দমন-পীড়ন, দুর্নীতি- এসব থেকে মানবমনে এমন অসন্তোষ জন্মায়, কিছু ক্ষেত্রে যা সহিংসতার দিকে টেনে নিতে পারে। ইসলাম তাই ন্যায়বিচারকে ঈমানের শর্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করেছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মোমিনগণ! তোমরা ন্যায়বিচারে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাক।’ (সুরা নিসা : ১৩৫)।
ইসলামের সার্বজনীন মূল্যবোধের ফল : ইসলাম শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের শিক্ষা এবং প্রতিবেশী, অমুসলিম, দুর্বল মানুষ- সবাইকে সম্মান করার নির্দেশ দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কায় নির্যাতিত অবস্থায়ও ক্ষমা ও সহনশীলতার আদর্শ দেখিয়েছেন। মদিনার ইসলামি রাষ্ট্রে বিভিন্ন গোত্র ও ধর্মের মানুষের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বাস্তব মডেল প্রতিষ্ঠা করেছেন। ইসলাম শুধু সন্ত্রাসবাদকে নিন্দা করেই ক্ষান্ত থাকেনি; শান্তি, ন্যায়, মানবতা ও ভারসাম্যমূলক চিন্তার মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধের পূর্ণাঙ্গ কাঠামোও প্রদান করেছে। ইসলামের এ সার্বজনীন মূল্যবোধ ধারণ করলেই সমাজ হবে শান্ত, মানবিক ও নিরাপদ।