ঢাকা বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ছে সরকার : মিডা চেয়ারম্যান

ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ছে সরকার : মিডা চেয়ারম্যান

মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (মিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক গতিপথের জন্য শক্ত ও টেকসই ভিত্তি গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘সাসটেইনেবল ব্লু ইকোনমি, কানেকটিভিটি ও রেজিলিয়েন্স ফর সাইডস’ শীর্ষক নর্থইস্ট ইন্ডিয়ান ওশান আঞ্চলিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। সংলাপটি যৌথভাবে আয়োজন করে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের ওশান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ওপিআরআই), মিডা এবং পিস অ্যান্ড পলিসি সল্যুশনস (পিপিএস)।

চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বের মধ্যে অন্যতম হলো দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অভিযাত্রার জন্য দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করে দেওয়া। দেশের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বড় বৈষম্যের বিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্থলভাগের আয়তন যেখানে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার, সেখানে বঙ্গোপসাগরের প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার বর্গকিলোমিটার জুড়ে দেশের সামুদ্রিক এলাকা বিস্তৃত।’ আয়তন বেশি হলেও গভীর সমুদ্র মৎস্য আহরণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণসহ সামুদ্রিক বিষয়গুলোর জন্য গুরুত্ব ও উদ্যোগ স্থলভিত্তিক বিষয়গুলোর এক-দশমাংশেরও কম বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাত্র ৩০ দিন বাকি আছে। এখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো নতুন নির্বাচিত সরকারের জন্য কার্যকর ও ব্যবহারযোগ্য প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুত করা।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান কর্মশালাটি নির্বাচিত সরকারকে একটি শক্ত ভিত্তি এবং প্রাথমিক দিকনির্দেশনা দেবে। এটির মাধ্যমে আগামী সরকার কাজ এগিয়ে নিতে পারবে।

আশিক মাহমুদ বলেন, আমাদের ব্লুপ্রিন্ট তাদের জন্য একটি ভালো শুরু হবে। এটি সমুদ্রসম্পদ ব্যবহার করে উপকূলীয় এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ওপিআরআই-এর প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মিৎসুতাকু মাকিনো এবং মিডার সদস্য কমোডর তানজিম ফারুক প্রমুখ।

প্রফেসর মাকিনো জোর দিয়ে বলেছেন, এই সংলাপ আয়োজনের লক্ষ্য হলো ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করা। এর মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়, প্রবাল প্রাচীরের ক্ষয় ও উপকূলীয় ক্ষয় অন্যতম। তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব পরিবর্তন শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়; বরং সমুদ্রনির্ভর লাখো মানুষের জীবিকা, অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের জন্য সরাসরি হুমকি। ভারত মহাসাগরের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে মাকিনো বলেন, ‘গ্রেট মিডল বে’ নামে পরিচিত এই অঞ্চলটি ৩৩টিরও বেশি দেশকে সংযুক্ত করেছে। তিনি আরও বলেন, জাপানের জন্যও অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। কারণ এটি দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি আমদানি নিশ্চিত করে।

অধ্যাপক মাকিনো বলেন, জাপান চায় ‘স্বাধীন ও মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক’ নীতি বাস্তবায়ন করতে। তাদের বিশ্বাস, সমুদ্র নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং সমুদ্র সংরক্ষণ একসঙ্গে এগোতে হবে।

তানজিম ফারুক বলেন, মহেশখালী দেশের দক্ষিণ-পূর্ব এলাকায় অবস্থিত উপকূলীয় জেলা। তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে মিডা প্রতিষ্ঠিত হয়। আমাদের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য হলো- আগামী ৩০ বছর ও তার পরবর্তী সময়ের মধ্যে মহেশখালীকে দেশের শিল্পোন্নয়নের ফ্ল্যাগশিপ এলাকায় রূপান্তর করা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত