
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নবম পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দ নিশ্চিত করে দ্রুত তা কার্যকর করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির উদ্যোগে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মালেক এবং সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিটি সেক্টরে নিষ্ঠা, সততা, ও দ্বায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন শৃঙ্খলা ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ সব সেবামূলক কার্যক্রমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল হওয়ার পর প্রায় ১১ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হয়নি।
আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘ এ সময়ে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাপনের ব্যয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফলে সরকারি নিম্ন গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা ২০১৫ সালের বেতন দিয়ে জীবনযাপনে চরমভাবে আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মচারী ব্যাংক ও প্রবিডেন্ট ফান্ড থেকে বার বার ঋণ নিয়ে সর্বশান্ত হয়েছেন।
বর্তমান নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে।
কিন্তু সেই অনুপাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। ২০১৫ সালের বেতন কাঠামোতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সঙ্গে বেতন সমন্বয়ের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এক কথায় নিম্ন গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এ অবস্থায় আসন্ন জাতীয় বাজেটে নবম পে-স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রেখে দ্রুত তা বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।