ঢাকা সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ১৮ শতাংশ

বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ১৮ শতাংশ

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এফডিআই কমেছে ১৮.৪২ শতাংশ। ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে নিট এফডিআই এসেছে ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা ২০২৪ সালের একই সময়ে ছিল ১৩ কোটি ২৮ লাখ ১০ হাজার ডলার। এর পেছনে সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট অনিশ্চয়তাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিনিয়োগ করার মতো কোনো পরিবেশ ছিল না। কারণ সে সময় রাজনৈতিক সমঝোতা কোন দিকে যাবে, সেটারও নিশ্চয়তা ছিল না। তাই সে সময়ে বিদেশি ঋণ দেশে আসবে-এমনটা ভাবাই অবাস্তব। বিদেশি বিনিয়োগ আনতে অন্তর্বর্তী সরকার কিছু উদ্যোগ নিয়েছিল।

তবে এসব উদ্যোগ বাধার মুখে পড়ে। সে সময় দেশের পরিস্থিতি দেখে বাইরের কোনো বিনিয়োগকারী এখানে বিনিয়োগ করবে এটা স্বাভাবিক নয়। কারণ তারা জানত অন্তর্বর্তী সরকার স্থায়ী হবে না।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে তখন কোনো পরিষ্কার রোডম্যাপ ছিল না। নানা ধরনের অনিশ্চয়তা ছিল সামনের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ ছিল। এসব কারণে বিনিয়োগ কমেছে।’ একই সময়ে পুনঃবিনিয়োগকৃত মুনাফাও (রি-ইনভেস্টেড আর্নিংস) কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে এটি কমেছে ৩৫.৩১ শতাংশ। অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে রি-ইনভেস্টেড আর্নিংস দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ৭৪ লাখ ডলার, যা ২০২৪ সালের একই সময়ে ছিল ৩২ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। রি-ইনভেস্টেড আর্নিংস বলতে বোঝায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় কার্যক্রম থেকে অর্জিত মুনাফা, যা লভ্যাংশ হিসেবে বাইরে না পাঠিয়ে দেশে ফের বিনিয়োগ করা হয়। যদিও এটি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়, প্রকৃত এফডিআই প্রবৃদ্ধি নির্ভর করে নতুন ইকুইটি বিনিয়োগের ওপর, যা এখনও দুর্বল রয়েছে।

এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও রাজনৈতিক পরিবেশ বিবেচনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো রি-ইনভেস্টেড আর্নিংস কমিয়েছে। কারণ সে সময় নির্বাচন হবে কি না এ নিয়েও অনিশ্চয়তা ছিল। যদিও ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হয়েছে, তবে ওই প্রান্তিকে এ নিয়ে শঙ্কা ছিল।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত