ঢাকা সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ঈদের আগে বুথে বুথে টাকার সংকট

ঈদের আগে বুথে বুথে টাকার সংকট

কোথাও টাকা শেষ, কোথাও ‘আউট অব সার্ভিস’, আবার কোথাও টাকা থাকলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে রাজধানীর বিভিন্ন এটিএম বুথে এমন চিত্রই দেখা গেছে। নগদ টাকা তুলতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক গ্রাহক ফিরছেন খালি হাতে। ফলে ঈদের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে শেষ মুহূর্তে নগদ অর্থ তুলতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে টানা সাত দিনের ছুটির মুখে পড়েছে দেশের ব্যাংক খাত। গতকাল রোববার ঈদের আগের শেষ কার্যদিবস হওয়ায় সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এটিএম বুথে বাড়তি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আর সেই চাপ সামলাতে না পেরে অনেক বুথে দেখা দিয়েছে নগদ অর্থের সংকট। কোথাও টাকা নেই, কোথাও সেবা বন্ধ, আবার সচল বুথগুলোতেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

ঈদের আগে এটিএম বুথে নগদ টাকার সংকট দেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। বড় ছুটির সময় ব্যাংকের শাখাগুলো বন্ধ থাকায় নগদ অর্থ উত্তোলনের চাপ বেড়ে যায় এটিএম বুথে। ফলে অল্প সময়েই অনেক বুথ টাকাশূন্য হয়ে পড়ে। তবে এবার ছুটির আগেই পরিস্থিতি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বুথে বুথে নগদ সংকটের পাশাপাশি কারিগরি ত্রুটিও বেড়েছে। এদিকে প্রতিবছরের মতো এবারও গ্রাহক ভোগান্তি এড়াতে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। শেষ কর্মদিবসেই নগদ অর্থ তুলতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন বহু গ্রাহক।

রাজধানীর রামপুরা এলাকায় একটি এটিএম বুথে টাকা তুলতে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী রহমান মাসুম। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর তিনি জানতে পারেন বুথে আর কোনো টাকা নেই। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করেও খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে তাকে। একই চিত্র দেখা গেছে মতিঝিল এলাকার বিভিন্ন বুথে। একটির পর একটি বুথ ঘুরেও টাকা পাননি অনেক গ্রাহক। কিছু বুথে টাকা থাকলেও দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। মতিঝিলে সেনা কল্যাণ সংস্থার ভবনের নিচে ট্রাস্ট ব্যাংকের এটিএম বুথে টাকা তুলতে গিয়ে একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন গ্রাহক আবুল কালাম। বুথে গিয়ে দেখেন নগদ অর্থ নেই। পরে পাশের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বুথেও একই পরিস্থিতি দেখতে পান। শেষ পর্যন্ত ডাচ-বাংলা ব্যাংকের প্রধান শাখায় গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে টাকা তুলতে সক্ষম হন। শুধু এটিএম বুথ নয়, কিছু ব্যাংক শাখাতেও নগদ অর্থ সংকটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রাজধানীর মগবাজারে উত্তরা ব্যাংকের একটি শাখায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর এক গ্রাহককে কাউন্টার থেকে জানানো হয়, আপাতত টাকা নেই। প্রয়োজনে অন্য শাখা থেকে টাকা নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রাহক মৌসুমি ইসলাম। তিনি বলেন, প্রায় আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর এসে বলছে টাকা নেই। এটা কেমন কথা? ঈদের আগে আজই তো টাকা প্রয়োজন। এখন যদি টাকা তুলতে না পারি, তাহলে সমস্যায় পড়ে যাব। তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশনা দেয়, কিন্তু বাস্তবে কতটা মানা হয়, সেটা দেখার কেউ নেই।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ করেছে। কোনো ব্যাংকই বাংলাদেশ ব্যাংকে এসে টাকা না পেয়ে ফিরে যায়নি। এখন কোনো ব্যাংক যদি নিজস্ব গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী নগদ অর্থ সরবরাহে ব্যর্থ হয়, সেটি তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনার বিষয়। তিনি আরও বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও ঈদের ছুটিতে এটিএম বুথ, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং বিভিন্ন অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যাংক যদি এ বিষয়ে অবহেলা করে বা গ্রাহকসেবায় ব্যাঘাত ঘটায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে গ্রাহকদের ভোগান্তি এড়াতে ঈদ উপলক্ষ্যে আগেই বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো এক সার্কুলারে বলা হয়, ঈদের ছুটির সময় এটিএম বুথে সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

কোনো ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত সমাধান করতে হবে। পাশাপাশি বুথের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া পিওএস, ই-পেমেন্ট গেটওয়ে এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখা, গ্রাহকদের জন্য হেল্পলাইন সচল রাখা এবং এসএমএস সতর্কবার্তা নিশ্চিত করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়।তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার পরও ঈদের আগেই নগদ অর্থ সংকটে পড়েছেন বহু গ্রাহক। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—শুধু নির্দেশনা জারি করলেই কি দায়িত্ব শেষ, নাকি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতেও প্রয়োজন কার্যকর নজরদারি? উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলো টানা সাত দিনের ছুটিতে থাকবে। তবে গ্রাহকসেবা সচল রাখতে আগামী শনিবার ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখা খোলা রাখা হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত