
ভারতীয়দের স্বর্ণের প্রতি ভালোবাসা নতুন কিছু নয়। বিয়ে, উৎসব, উত্তরাধিকার কিংবা বিনিয়োগ—ভারতীয় পরিবারগুলোতে এ মূল্যবান ধাতুর অবস্থান সবসময়ই অনন্য। কিন্তু প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কেনার পাশাপাশি, দেশটির ঘরে ঘরে এবং লকারে বিশাল এক অব্যবহৃত স্বর্ণের মজুত জমে রয়েছে। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন নতুন আমদানিকৃত স্বর্ণের ওপর নির্ভর না করে ঘরে পড়ে থাকা ‘অব্যবহৃত’ স্বর্ণ রিসাইকেল বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ করেন। মূল ভাবনাটি খুবই সহজ: বিদেশ থেকে নতুন করে কেনার আগে দেশের ভেতরের সম্পদকেই কাজে লাগানো।
বাজার সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, ভারতের বিভিন্ন পরিবার এবং মন্দির ট্রাস্টগুলোর কাছে বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার থেকে ৩২ হাজার টন স্বর্ণ মজুত রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। কোনো কোনো সংস্থার মতে এই পরিমাণ ৩৫ হাজার টনও হতে পারে। এ বিপুল সম্পদের সিংহভাগই পড়ে রয়েছে লকার, আলমারি কিংবা সিন্দুকে। এই মজুদের সামান্য অংশও যদি মূল অর্থনীতিতে ফিরে আসে, তবে দেশের অর্থনীতিতে তার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।
স্বর্ণের রিসাইক্লিং আসলে কী?
স্বর্ণের রিসাইক্লিং বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ হলো পুরোনো অলংকার, ভাঙা গহনা, কয়েন, স্বর্ণের বার এবং এমনকি ইলেকট্রনিক্স পণ্য থেকে স্ক্র্যাপ স্বর্ণ সংগ্রহ করে রিফাইনারির (পরিশোধনাগার) মাধ্যমে আবার খাঁটি স্বর্ণয় রূপান্তর করা। প্রথমে স্বর্ণের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করা হয়। এরপর তা গলিয়ে এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে পরিশোধন করে প্রায় ৯৯.৯ শতাংশ পর্যন্ত খাঁটি স্বর্ণে রূপান্তর করা হয়। পরে এই স্বর্ণ দিয়ে আবার নতুন গহনা, কয়েন বা বার তৈরি করে বাজারে ছাড়া হয়। মুথুট এক্সিমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কেয়ুর শাহ বলেন, পুরোনো স্বর্ণকে ২৪ ক্যারেটের খাঁটি স্বর্ণয় রূপান্তর করে পুনরায় সরবরাহ চেইনে ফিরিয়ে আনাই হলো স্বর্ণের রিসাইক্লিং। অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি এর একটি বড় পরিবেশগত দিকও রয়েছে।