ঢাকা বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

কর অব্যাহতি পেতে যাচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান

কর অব্যাহতি পেতে যাচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ খাতে বড় ধরনের কর সুবিধা দিতে যাচ্ছে সরকার। সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবসায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২০৩৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অর্জিত আয়ের ওপর আয়কর অব্যাহতি দিতে পারে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। শিগগির এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি হতে পারে। কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৭৬-এর উপধারা (১) অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার এ কর অব্যাহতির ঘোষণা দিতে পারে। প্রজ্ঞাপনটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, কর অব্যাহতি পেতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কিছু শর্ত মানতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকেআয়কর আইন, ২০২৩-এর সব বিধান মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে এবং প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য নেট মিটারিং নির্দেশিকাণ্ড২০২৫ অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। আরও জানা গেছে, উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ও ব্যবহারকারীর মধ্যে সম্পাদিত নির্দিষ্ট পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (পিপিএ) অনুযায়ী ব্যবহারকারীকে সরবরাহ করতে হবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ থাকলে তা নেট-মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে হবে।

এছাড়া এ খাতে উৎসে কর কর্তনের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। আয়কর আইনের বিধান অনুযায়ী প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসে কর কেটে তা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। এদিকে, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও বিশেষ কর রেয়াত সুবিধা ঘোষণা করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে, তাদের মোট ব্যবহৃত সৌরবিদ্যুতের বিপরীতে পরিশোধিত বিদ্যুৎ বিলের ৫ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ মোট প্রদেয় আয়করের বিপরীতে কর রেয়াত হিসেবে পাওয়া যাবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় বাধা কর ও শুল্ক হার।

বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তিতে মোট শুল্কভার (টিটিআই) ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে; যেমন ডিসি কেবল, প্যানেল স্ট্রাকচার বা ব্যাটারির ক্ষেত্রে। অর্থাৎ একটি সোলার প্রকল্পের মূল প্রযুক্তি খরচের পাশাপাশি কর কাঠামোই প্রকল্প ব্যয়ের একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সোলার প্যানেল আমদানিতে মোট শুল্কভার প্রায় ২৭ শতাংশ, ইনভারটারে প্রায় ২৯ শতাংশ আর পিভি-ডিজি কন্ট্রোলারে ৮৯ শতাংশ পর্যন্ত করভার রয়েছে। শুধু কেবলের ক্ষেত্রেই শুল্কভার ৫৮ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উপকরণের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। একটি সোলার প্রকল্পের মূল প্রযুক্তি খরচের পাশাপাশি কর কাঠামোই প্রকল্প ব্যয়ের একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই কর সুবিধা বেসরকারি খাতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে বিনিয়োগ বাড়াবে এবং দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত