
বেসরকারি খাতের কর্মীদের অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ‘প্রগতি স্কিমে’ তফসিলি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি ও তফসিলি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নিয়ে বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অগ্রগতি এবং ব্যাংক খাতের কর্মীদের প্রগতি স্কিমে অন্তর্ভুক্তির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান। তিনি বলেন, দেশে বেসরকারি খাতে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ নিবন্ধিত শ্রমিক-কর্মী কাজ করলেও তাদের অধিকাংশের জন্য অবসর-পরবর্তী কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। সরকারি চাকরিজীবীরা পেনশন সুবিধা পেলেও বেসরকারি খাতের কর্মীরা এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত। এ বাস্তবতায় সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় চালু হওয়া ‘প্রগতি স্কিম’ একটি কার্যকর ও টেকসই সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তিনি জানান, স্কিমটিকে আরও আকর্ষণীয় করতে শেয়ারভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর সম্ভাবনা, মনোনীত ব্যক্তির জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা এবং আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। সভায় জানানো হয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মীদের জন্য বিশেষভাবে প্রণীত প্রগতি স্কিমে মাসিক চাঁদার ৫০ শতাংশ কর্মী এবং বাকি ৫০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বহন করবে। মাসিক চাঁদার পরিমাণ ১ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। অবসরের পর আজীবন মাসিক পেনশন সুবিধা, চাঁদায় কর অব্যাহতি, পেনশন আয় করমুক্ত রাখাসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে এ স্কিমে।