ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বাজেটের আগে শেয়ারবাজারে ফের অস্থিরতা

বাজেটের আগে শেয়ারবাজারে ফের অস্থিরতা

বড় উত্থান এরপর ঢালাও দরপতন, তারপর আবার উত্থান, ফের পতন। নতুন অর্থবছরের বাজেটের আগে দেশের শেয়ারবাজারে এমন প্রবণতাই দেখা যাচ্ছে। আজ ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই বাজেট উপস্থাপনের আগে শেয়ারবাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ৭ জুন শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়। একই সঙ্গে প্রায় দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়। তবে পরের কার্যদিবসে ঢালাও দরপতন হয়। এরপর গতকাল ৯ জুন ফের ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরে শেয়ারবাজার। তবে গতকাল বুধবার শেয়ারবাজারে আবার দরপতন হয়েছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের গতি।

প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার। ফলে দুই বাজারেই প্রধান মূল্যসূচক কমেছে। একই সঙ্গে ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মেলে। লেনদেনের প্রথম আড়াই ঘণ্টা সূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধরা অব্যাহত থাকে। তবে লেনদেনের শেষ দিকে এক শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ায়, এতে দাম কমার তালিকা বড়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৪৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৭৮টির এবং ৬৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে, ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৭০টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১০৪টির দাম কমেছে এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩০টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৮টির এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৬টির এবং ৩৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ২১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২টির দাম কমেছে এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫১৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় দশমিক শূন্য ৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৮০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১১৪ পয়েন্টে উঠে এসেছে।

প্রধান মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২১০ কোটি ৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ৩৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১৭৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এ লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৭ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সামিট এলায়েন্স পোর্টের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ২৩ লাখ টাকার। ২৩ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এনসিসি ব্যাংক।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- পিপলস ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স, আরডি ফুড, জেনেক্স ইনফোসিস এবং সিমটেক্স। অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৭৩ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৮টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৯টির এবং ৩০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত