ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

উৎসে কেটে রাখা বাড়তি কর পরে ফেরত পাওয়া যাবে

উৎসে কেটে রাখা বাড়তি কর পরে ফেরত পাওয়া যাবে

ব্যাংক ও সঞ্চয়ের সুদ প্রাপ্তি, বেসরকারি চাকরির বেতন পাওয়া বা গাড়ি কেনার সময়সহ নানান কারণে যে উৎসে কর কেটে রাখা হয়, আগামী অর্থবছর থেকে তার বাড়তি অংশ ফেরত পাওয়ার বিধান করল সরকার। এতদিন এসব কেটে রাখা উৎসে কর ন্যূনতম কর হিসেবে ছিল; নতুন এ বিধান বাজেটে যুক্ত করায় এসব উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হবে। এতদিন ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতার রিটার্ন জমার সময় উৎসে করের চেয়ে বেশি পরিমাণ কর চলে এলে তখন বাড়তি কর তাকে দিতে হত। কিন্তু কেটে রাখা করের তুলনায় কম কর হলে সে টাকা আর ফেরত দিত না কর আদায়কারী সংস্থা-এনবিআর। বরং সেই করকে ন্যূনতম কর হিসেবে বিবেচনা করার বিধান ছিল। নতুন বিধানের ফলে সীমিত আয়ের মানুষ করের আওতা থেকে কিছুটা ছাড় পাবে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো নারীর সঞ্চয়ের ওপর যদি বছরে চার লাখ টাকা মুনাফা আসে, বর্তমান বিধান অনুযায়ী এ টাকা পাওয়ার সময় ১০ শতাংশ হারে ৪০ হাজার টাকা উৎসেই, মানে তিনি পাওয়ার সময়ই কেটে রাখা হত। অথচ তার যদি অন্য আর কোনো আয় না থাকে, সেক্ষেত্রে চার লাখ টাকা করমুক্ত আয়সীমার মধ্যে পড়ার কথা। তার এ ৪০ হাজার টাকা ন্যূনতম কর হিসেবেই বিবেচিত হত। নতুন বিধানে কেটে রাখা এ কর তিনি ফেরত পাবেন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল বৃহস্পতিবার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘এতদিন করযোগ্য বা কম আয় থাকা সত্ত্বেও উৎসে কর্তিত কর বাধ্যতামূলক ন্যূনতম কর হিসেবে বিবেচনা করা হত যা ব্যবসায় পুঁজির সংকট তৈরি করত।

‘সরকার এই বিধান বাতিল করে উৎসে করকে, অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করার আন্তর্জাতিক বিধান চালু করছে। এছাড়া, অতিরিক্ত পরিশোধিত উৎসে কর ফেরত প্রদান করা হবে। এর মাধ্যমে কর ব্যবস্থার ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হবে।’ তার ভাষ্য, ‘একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের করনীতি শুধু রাজস্ব সংগ্রহের হাতিয়ার হিসেবে নয়; খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সুরক্ষার জন্যও ব্যবহৃত হতে হবে।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত