
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ এবং যুক্তরাজ্যের এক্সপোর্ট ক্রেডিট এজেন্সি, ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স (ইউকেইএফ) যৌথভাবে ঢাকায় একটি উচ্চ পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য করিডরকে আরও গতিশীল করা এবং বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণকে আরও ত্বরান্বিত করার সুযোগগুলো নিয়ে আলোচনা করা। গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ, ব্রিটিশ হাই কমিশন ঢাকা, ইউকেইএফ এবং শীর্ষস্থানীয় ওষুধ শিল্প, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষি ব্যবসা, সীফুড, ফুটওয়্যারসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা। তারা বাংলাদেশ বাজারের বিদ্যমান সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ এবং বাণিজ্য অর্থায়ন ও এক্সপোর্ট ক্রেডিট কীভাবে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে; এসব বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
গোলটেবিল বৈঠকে ইউকেইএফ সমর্থিত অর্থায়নের বাস্তব প্রয়োগ, এক্সপোর্ট ক্রেডিট সুবিধার কাঠামো এবং কীভাবে এসব প্রকল্পের তালিকা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, যেমন অবকাঠামো, টেকসই উন্নয়ন এবং শিল্প খাতের আধুনিকায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা যায়; এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড দীর্ঘ ১২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার অংশীদার। দেশ যখন উন্নয়নের নতুন ধাপে অগ্রসর হচ্ছে, তখন যুক্তরাজ্যের মতো কৌশলগত অংশীদারের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি করা গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি এ গোলটেবিল বৈঠকের মাধ্যমে আমরা আবারও আমাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি-বাংলাদেশকে বিশ্বের সঙ্গে এবং বিশ্বকে বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত করার। ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমরা আমাদের ক্লায়েন্টদের জন্য বিশ্বমানের যুক্তরাজ্যভিত্তিক দক্ষতা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ নিয়ে আসতে পারব।
যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এ ধরনের গোলটেবিল বৈঠক ইউকেইএফ প্রতিনিধিদেরকে সরকার ও ব্যবসায়িক নেতাদের কাছ থেকে সরাসরি মতামত শোনার সুযোগ দেবে এবং যুক্তরাজ্যের দক্ষতা ও অর্থায়ন কোন কোন ক্ষেত্রে উদ্ভাবন, প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে তা জানার সুযোগ করে দেবে। বাংলাদেশের বাজারে দীর্ঘ উপস্থিতি ও গভীর অভিজ্ঞতা নিয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড চায় ইউকেইএফ-এর প্রধান অংশীদার হতে।
ব্যাংকটি বাংলাদেশের করপোরেট প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সরবরাহকারী, প্রযুক্তি এবং মূলধনকে সংযুক্ত করতে কাজ করবে। এর মাধ্যমে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, ইউকে-এর মানসম্পন্ন পণ্য ও সেবা গ্রহণ, ব্যবসায়িক কার্যক্রম আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি সম্ভব হবে। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতির অংশীদার হিসেবে, ১২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ দেশের পরিবর্তনশীল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশকে সহায়তা করে আসছে। ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্সের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ব্যাংকটি টেকসই প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে, রপ্তানি ও সরবরাহ শৃঙ্খলের বহুমুখীকরণে সহায়তা করতে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছে।